
২০২৬ সালে বৃহত্তর টরন্টোর জনসংখ্যা ৭.৮ মিলিয়ন। যখন আমি এই শহরে আসি তখন অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে এখানকার জনসংখ্যা ছিল ৪.৫ মিলিয়ন। অর্থাৎ এই ২৯ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৭ লাখ। অথচ টরন্টোর ডাউন টাউন যেখানে আমি কাজ করি সেই মুল শহরে ঢুকতে ১৯৯৭ সালেও যে দুটো হাইওয়ে ছিল আজ ২৯ বছর পরও সেই দুটো হাইওয়ে রয়ে গেছে, সেইম ওল্ড গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডনভ্যালি পার্কওয়ে।
শনি, রবি ছুটির দিনসহ যে কোনদিন দিনে কিংবা রাতে এই দুটো হাইওয়েতে পিঁপড়ার মত গাড়ি চলে, প্রচন্ড ট্রাফিক। অথচ একসময় টরন্টোর ডাউন টাউনে অনেক পার্কিং ফ্রি ছিল, ফাঁকা জায়গা ছিল, এখন নুতন নুতন সুউচ্চ ভবন হয়েছে, ফ্রি পার্কিং নেই বললেই চলে, গতকাল একটা মিটিং এ একজন বললেন ক্ষেত্রভেদে ৭৫ ডলারও পার্কিং ফি দিতে হয়। অথচ বিগত ষোল বছরে বাংলাদেশে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে কতগুলো হাইওয়ে, ফ্লাইওভার, ব্রীজ হয়েছে তা কল্পনাও করা মুশকিল। এই কথাগুলো বলছিলাম গতকাল টরন্টোর একটি ব্যাংকওয়েট হলের মিটিং এ।
আগামী নভেম্বরে অন্টারিও লিবারেল পার্টির নুতন নেতা নির্বাচিত হবে। এ পর্যন্ত চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন হলে নাভদিপ বাইনস। স্হানীয় এমপিপি এ্যান্ড্রিয়া হ্যাজেল আয়োজন করেছিলেন নাভদিপ বাইনসের সমর্থনে এই সভা। টরন্টোর উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্হা, যোগাযোগ এবং শিক্ষা নিয়ে আমার মন্তব্য বলার সময় বাংলাদেশের সাথে টরন্টোর উন্নয়নের তুলনামূলক তথ্যগুলো তুলে ধরে এর উত্তর খোঁজার জন্যে আহবান করেছি। আরো বলেছি তোমরা যে দলই হও না কেন সবাই ফাঁকা প্রতিজ্ঞা করো, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কর এবং হালকা করে একই বিষয়ের মুলা ঝুলিয়ে দাও জনগণের সামনে।
এবার আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট করে বল যে ঠিক কিভাবে এবং কী কী বিষয়ে তোমরা স্বাস্হ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও বাসস্হান সমস্যার সমাধান করবে। আমার কথাগুলো তাদের পছন্দ হয়েছে বলে মনে হলো না। তবে আমি এগুলো বলবোই এবং আগামী সভাগুলোতে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তুলবো। যাহোক সেই সভা শেষে রাত ন টার দিকে গিয়েছিলাম স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী এলাকার লিবারেল এমপিপি প্রার্থী আহসান হাফিজের অফিসে। তার সাথে তার নির্বাচন বিষয়ে কিছু আলাপ সেরে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা।

