
আমি বিটপীখ্যাত আলাউদ্দিনকে তার ঢাকা আগমনের আগে থেকে চিনি। আমার জীবনের প্রথম দিকে ঢাকার পত্রিকায় কিছু গল্প ছাপা হয়েছে আর মুক্তধারার সবে কিছু বইয়ের প্রচ্ছদ করেছি।চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেনে আসা যাওয়া করি। মাঝে কুমিল্লায় ট্রেন থামলে অতি তরুণ সাহিত্যমনা আলাউদ্দিন সহ আরো তরুণরা আমাকে এক কিংবা দুই দিনের জন্যে নামিয়ে নিতো। ভালো থাকার ব্যবস্থা করতো। বড়লোক ভাবীজানদের বাড়ি-বাড়ি এক বেলা করে ভালো সব খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতো। তখন আমি না চট্টগ্রামে,না ঢাকায় তেমন কিচ্ছুই হয়ে উঠিনি। তবে আলাউদ্দিনের খাতিরে কুমিল্লার এই এক-দুই দিন মনে হতো কি হনুরে! পরে ঢাকায় এসে থিতু হই । বিটপীতে কাজও শুরু করি। এরও পাঁচ-সাত বছর পরে ক্লায়েন্ট সার্ভিসের ইফতেখার ভাই তিনিও কুমিল্লার আলাউদ্দিনকে নিয়ে এলেন বিটপীতে। প্রথমে মিডিয়া এসিস্টেন্ট পরে মিডিয়া মেনেজার ভাবে জীবটা শেষ করলো প্রিয় আলাউদ্দিন। বিটপী এমন একটা এ্যাড এজেন্সী যাকে ট্রাঞ্জিট হাবও বলা যায় কত মানুষ আসেন আবার ভালো কোনো মাল্টি ন্যাশনালে বড় কর্পোরেটে চলে গেছেন তার হিসাব নেই। বাংলাদেশের খ্যাতিমান মঞ্চ নাটক,টিভি নাটক,কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক গণের আশি ভাগই কখনো না কখনো বিটপীতে কাজ অবধারিত ভাবে কাজ করে গেছেন বিটপীতে। রামেন্দুদা বাইশ বছর,আমি বিশ বছর, কানাডা আসার আগে পর্যন্ত বিটপীতেই ছিলাম। এখনতো আলাউদ্দিন বিটপীতে থাকতেই চলে গেলো।
এখন টরন্টোতে শেষ রাত আজ দুপুর থেকে ঢাকা থেকে ইউ এস এমন কি টরন্টো থেকে সবাই নানা ভাবে খবরটি জানাচ্ছে যে আলাউদ্দিন আর নেই। হোয়াটসএ্যাপে প্রথম জানিয়ে ছিলো ঢাকার পেপার রাইমের প্রিয় সাঈফ,মাঝে সন্ধ্যায় টরন্টোর স্বনামখ্যাত আবৃতিকার ও মঞ্চ অভিনেতা আহমেদ হোসেন। মাঝে আরো কয়েকজন শেষ কলটি রাত দুইটায় শিল্পী হান্নানের সেও দীর্ঘ দিন বিটপীর আর্টিস্ট ছিলো । ভাবলাম আলাউদ্দিনকে নিয়ে লিখি একটু। পুরোনো ২টি ছবিও পেয়ে গেলাম। একটি বিটপীর ৩৫ তোপখানা রোড পল্টনের পুরোনো সেই হেরিটেজ অফিসের ঢাকার মুখে। ক্লিন্ড সেভ আলাউদ্দিন আমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে। দ্বিতীয় ছবি কত যুগ আগের এখন আর মনেও নেই বিটপীর আর্ট শেকসানের সবাই গাজীপুরের জঙ্গলে পিকনিক করতে গিয়ে তোলা। এদের মধে ৫ জন আজ আর নেই।

