ভুয়া বটচালিত ট্রাভেল সাইট নিয়ে পিয়ারসন বিমাবন্দরের উদ্বেগ

ভুয়া বটচালিত ট্রাভেল সাইট নিয়ে পিয়ারসন বিমাবন্দরের উদ্বেগ - the Bengali Times
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ভ্রমণসংক্রান্ত নিবন্ধের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ভ্রমণসংক্রান্ত নিবন্ধের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার বৃহত্তম বিমানবন্দর টরন্টো পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট যাত্রীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধে ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল এবং বিমানবন্দরের পরিচালনা সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য বাস্তব সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পিয়ারসন বিমানবন্দরের মুখপাত্র শন ডেভিডসন সিটিভি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে কিছু ওয়েবসাইটে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে একজন লেখক বা একটি এআই সিস্টেম প্রতিদিন প্রায় ১০০টি পর্যন্ত আলাদা নিবন্ধ প্রকাশ করছে। এসব লেখা শুধু টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরকে ঘিরেই নয়, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিমানবন্দর সম্পর্কেও প্রকাশ করা হচ্ছে। তার ভাষায়, দ্রুত কনটেন্ট প্রকাশের প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের কাছে এমন তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না।

পিয়ারসন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ করেছে, যেগুলোতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে : দ্যট্রাভেলারডটওআরজি, টরন্টো ডাইজেস্ট, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড, নোম্যাডলয়ার এবং ট্রাভেল টুরিস্টার। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে ফ্লাইটের অবস্থা, বিলম্ব কিংবা বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়ে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো উৎসের সঙ্গে মেলে না।

- Advertisement -

এর মধ্যে নোম্যাডলয়ার-এর কনটেন্ট ম্যানেজার পরিচয়ে প্রীতি গুঞ্জন ইমেইলে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নিজেদের এআই মডেল উন্নত করার কাজ করছে। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ নির্ভুল তথ্য প্রকাশ করা এবং এই ধরনের সমস্যার বিষয়টি সামনে আসায় তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার আশ্বাসও দেন।

অন্যদিকে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড এক বিবৃতিতে অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টরন্টো পিয়ারসনের ফ্লাইট পরিস্থিতি বা বিমানবন্দরের পরিচালনা নিয়ে তারা এআই বটের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরি করে এমন অভিযোগ সত্য নয়। তাদের ভাষ্য, প্রতিটি প্রতিবেদন যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয় এবং সাংবাদিকতার জবাবদিহিতা বজায় রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পিয়ারসনের মুখপাত্র শন ডেভিডসনের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একাধিক ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো অনেক যাত্রী অনলাইনে পাওয়া এই ধরনের তথ্যকে সত্য বলে ধরে নিচ্ছেন। অথচ ফ্লাইটের সময়সূচি, বিলম্ব বা বাতিলের মতো তথ্য মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এসব বিষয়ে একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন ও বিমানবন্দরের সরকারি তথ্যব্যবস্থা। ভুল তথ্যের কারণে একজন যাত্রী অপ্রয়োজনীয়ভাবে কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছে যেতে পারেন। আবার কেউ যদি ভুলভাবে জানতে পারেন যে তার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, তাহলে দেরিতে এসে পুরো ফ্লাইটই মিস করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ে না, বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও চাপ সৃষ্টি হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন খুব অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ নিবন্ধ তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু নির্ভুল তথ্য যাচাই ছাড়া এসব লেখা প্রকাশিত হলে তা সহজেই ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণ, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি বা জরুরি পরিষেবার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের ভুল তথ্যের প্রভাব অনেক বেশি। পিয়ারসন বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই-নির্ভর কনটেন্ট পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট প্রকাশকারী ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের মান আরও উন্নত করা জরুরি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, ফ্লাইট সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা বিমানবন্দরের সরকারি তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করতে। কারণ, ফ্লাইটের সময়সূচি, গেট পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিল সংক্রান্ত সর্বশেষ ও নির্ভুল তথ্য সেখানেই পাওয়া যায়। এআই প্রযুক্তি তথ্যপ্রবাহকে দ্রুততর করলেও এর সঙ্গে তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় প্রযুক্তির সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি ভুল তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পাবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles