গাড়িচালকের সঙ্গে প্রেম, স্বামীর ২০ লাখ টাকা হাতাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিছানায় ছাড়লেন বিষধর সাপ!

গাড়িচালকের সঙ্গে প্রেম, স্বামীর ২০ লাখ টাকা হাতাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিছানায় ছাড়লেন বিষধর সাপ! - the Bengali Times
সংগৃহীত ছবি

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে স্বামীকে হত্যা করতে প্রেমিকের সহায়তায় ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০ লাখ রুপির বিমার টাকা আত্মসাৎ করতে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেন তিনি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরঠের হস্তিনাপুর এলাকার বাসিন্দা অতুল পওয়ার ও তার স্ত্রী দামিনী একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে অতুলের মৃত্যু হলে দামিনী দাবি করেন, স্বামী সাপের কামড়ে মারা গেছেন। তিনি নিজেই দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক অতুলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অতুলের বিছানা থেকে একটি বিষধর সাপ উদ্ধার হয়।

- Advertisement -

তবে ঘটনাটি প্রথম থেকেই সন্দেহজনক মনে হয় অতুলের পরিবারের সদস্যদের। তাদের দাবি, ঘরটি পরিপাটি ছিল এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবে সাপ ঢোকার কোনো সুযোগ ছিল না। পরে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দামিনীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এরপর দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতুলকে হত্যার পরিকল্পনা অনেক দিন ধরেই চলছিল। তুষারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাপ দিয়ে হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল দামিনীর। তার অনুরোধে তুষার এক সাপুড়ের কাছ থেকে একটি বিষধর সাপ সংগ্রহ করে দামিনীর হাতে তুলে দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে দামিনী স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। অতুল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার পর বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের ধারণা, অতুলের নামে থাকা প্রায় ২০ লাখ রুপির জীবনবিমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই হত্যার মূল উদ্দেশ্য। তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করা আরও দুই ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অসংগতি তাদের সন্দেহ জাগায়। পরে দামিনী ও তুষারের মোবাইল ফোনে বিষধর সাপের ছবি এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles