উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না নাগরিকত্ব হারানো লোকজন

উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না নাগরিকত্ব হারানো লোকজন - the Bengali Times
বিষয়টি নিয়ে অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াবার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার এক মুখপাত্র জানান মন্ত্রী এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন না

উত্তরাধিকার আইনের আওতায় নাগরিকত্ব সনদ পাওয়া বহু মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে তাদের নাগরিকত্ব সনদ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নাগরিকত্বের বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঘটনাটি সামনে আসে যখন উত্তরাধিকার সূত্রে নাগরিকত্ব স্বীকৃতি পাওয়া রানা চরন জানান, গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব সনদ হাতে পান। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। গত শনিবার তিনি ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে একটি চিঠি পান, যেখানে তাকে তার নাগরিকত্ব সনদ অবিলম্বে সমর্পন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

- Advertisement -

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার নাগরিকত্বের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, তিনি প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির মূল কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমা দিতে পারেননি অথবা কেন মূল উৎস থেকে সেই নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে রানা চরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তিনি অনুসরণ করেছেন। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন এবং যেসব ক্ষেত্রে মূল নথি পাওয়া সম্ভব হয়নি, সে সম্পর্কেও যথাযথ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাই নাগরিকত্ব অনুমোদনের পর আবার সেই একই বিষয় সামনে এনে সনদ ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্ত তার কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং হতাশাজনক বলে মনে হয়েছে।

তার ভাষায়, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার পর হঠাৎ করে এমন চিঠি পাওয়া মানসিকভাবে ভীষণ চাপের। তিনি সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি।

শুধু রানা চরন নন, উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া আরও অনেক ব্যক্তি একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও ঠিক কতজনকে এই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অনুমোদনের পরও যদি এই ধরনের পুনর্বিবেচনার মুখে পড়তে হয়, তাহলে পুরো আবেদন প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ এটি একজন ব্যক্তির আইনি পরিচয়, অধিকার এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই যদি কোনো নথি নিয়ে আপত্তি থেকেই থাকে, তবে তা নাগরিকত্ব অনুমোদনের আগেই যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা উচিত ছিল। অনুমোদনের পর সনদ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াবার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার এক মুখপাত্র জানান, মন্ত্রী এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন না। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও সেখান থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সরকারের নীরবতার কারণে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানতে চাইছেন, কোন নির্দিষ্ট কারণে তাদের নাগরিকত্ব পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের নাগরিকত্ব বহাল থাকবে কি না।

পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া অনেকেই নিজেদের আইনি অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং লিখিত ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন, যাতে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles