
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডকে নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি সমীক্ষায় তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার দাবি করা হলেও সেই তথ্যকে সরাসরি “ভুয়া” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফোর্ড। তার দাবি, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি ও তার প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ (পিসি) পার্টি টানা চতুর্থবারের মতো বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডাগ ফোর্ড বলেন, তিনি সাধারণত নিজের সাফল্য নিয়ে বড়াই করতে পছন্দ করেন না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে আমরা প্রায় ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে আবারও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করব।”
সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যাঙ্গাস-রিডের এক জনমত সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, অন্টারিওতে ফোর্ডের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ২১ শতাংশে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কানাডার সব প্রাদেশিক প্রিমিয়ারের মধ্যে এটিই বর্তমানে সবচেয়ে কম জনপ্রিয়তার হার। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিজের রাজনৈতিক জীবনে এটিই ফোর্ডের সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার রেকর্ড বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সমীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন অন্টারিওর প্রিমিয়ার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকাশিত সমীক্ষাটি বাস্তব জনমতের প্রতিফলন নয়। বরং এটি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট একটি জরিপ। ফোর্ডের অভিযোগ, সমীক্ষাটি এমন সব এলাকায় পরিচালিত হয়েছে যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-র সমর্থক বেশি। ফলে পুরো প্রদেশের ভোটারদের মতামত সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। তার কথায়, “তারা একটি ভুয়া সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। তারা মূলত এনডিপি এবং লিবারেল ককাসের সমর্থকদের মধ্যেই জরিপ চালিয়েছে। পুরো অন্টারিওর মানুষের কাছে যায়নি।”
ডাগ ফোর্ড শুধু সমীক্ষার ফলাফল নয়, এর পদ্ধতিগত দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, জরিপ পরিচালনাকারীরা মূলত ডাউনটাউনের সেই সব এলাকায় গিয়েছেন যেখানে এনডিপির শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে। অথচ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ শহরতলি, ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের মতামত যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফোর্ডের মতে, এ ধরনের সমীক্ষা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করে। তিনি গণমাধ্যমকেও এ ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
যদিও প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টি তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জনমত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি, তবুও ফোর্ড দাবি করেছেন, দলের হাতে থাকা তথ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার ভাষায়, শুধু দলের নিজস্ব জরিপই নয়, আরও কয়েকটি বেসরকারি সমীক্ষাতেও পিসি পার্টির অবস্থান শক্তিশালী দেখা যাচ্ছে। সেই কারণেই তিনি নিশ্চিত, এখনই ভোট হলে তার দল আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করবে।
নিজেদের জনপ্রিয়তার পেছনে সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ফোর্ড। তিনি বলেন, তার সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে এবং কর না বাড়িয়ে মানুষের হাতে আরও বেশি অর্থ রাখার চেষ্টা করেছে। ফোর্ডের দাবি, অন্টারিও বর্তমানে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। এই সাফল্যই আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন এনে দেবে। তিনি বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান তৈরি করেছি, কর বাড়াইনি, মানুষের পকেটে টাকা রেখেছি এবং অন্টারিওর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছি। মানুষ এই কাজের মূল্যায়ন করবে।”
অন্টারিওতে পরবর্তী নির্বাচন এখনও কিছুটা সময় দূরে থাকলেও জনমত সমীক্ষা ঘিরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি অবস্থান রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে যেখানে স্বাধীন জরিপে ফোর্ডের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রিমিয়ার নিজেই সেই তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। ফলে আগামী মাসগুলোতে নতুন জনমত সমীক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রচার কতটা ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করে, সেদিকেই নজর থাকবে অন্টারিওর রাজনৈতিক মহলের।

