
মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ড। তবে মাঠের বাইরের জীবন তার সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সম্পর্কে রয়েছেন নরওয়ের মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনের সঙ্গে।
দুজনের পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। নরওয়ের ব্রিনে শহরে বেড়ে ওঠা হালান্ড ও ইসাবেল একই ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে খেলেছেন। তবে তাদের প্রেমের শুরু হয় অনেক পরে। হালান্ডের ভাষ্য, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর ইসাবেলই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
একসময় ইসাবেলও ফুটবলার ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছেন তিনি। ফুটবল সম্পর্কে তার ধারণা থাকায় হালান্ডের পেশাগত চাপ ও ব্যস্ততা সহজেই বুঝতে পারেন বলে জানান এই নরওয়েজিয়ান তারকা।
ব্যক্তিগত জীবনে বিলাসী নন হালান্ড। দুজনের প্রিয় সময় কাটে ঘরে বসেই। কখনও একসঙ্গে রান্না করেন, আবার কখনও ভিডিও গেম মাইনক্রাফট খেলেন। সুযোগ পেলেই নিজের শহর ব্রিনেতে ফিরে সাধারণভাবে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তারা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের ঘরে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তানকে জনসম্মুখ থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই যুগল। এখন পর্যন্ত তারা সন্তানের নাম বা ছবি প্রকাশ করেননি।
ইসাবেল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিবারকে ব্যক্তিগত পরিসরে রাখতে চান তিনি। একই সঙ্গে নিজের পরিচয়ও মানুষের কাছে তুলে ধরতে চান, তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন হালান্ড ও ইসাবেল। বিপুল আয়ের সুবাদে সম্প্রতি চেশায়ারে প্রায় ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন হালান্ড। বাড়িটিতে রয়েছে ১০টি শয়নকক্ষ, একটি হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বিশাল বাগান, কোচ হাউস ও ঘোড়ার আস্তাবল। এছাড়া তার মূল্যবান সুপারকার সংগ্রহের জন্য বিশেষ গ্যারেজও নির্মাণ করা হচ্ছে।
মাঠে গোলের পর গোল করলেও ব্যক্তিগত জীবনে হালান্ডের সবচেয়ে বড় স্বস্তি—পরিবারের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানো। তার মতে, ইসাবেলের ফুটবল-অভিজ্ঞতাই তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

