
কানাডার রাজনীতি যে এত তরল অবস্থায় আছে, এগুলো নিয়ে না লিখে পারা যায় না। যেমন মার্ক কারনি নিউ ইয়র্কে ব্যবসায়ি প্রতিনিধিদের কাছে বলছেন, এ স্ট্রং কানাডা উইল মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন। ভাবা যায়, কানাডার প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান মুখে তুলে নিয়েছেন? তিনি দর্শক বুঝে বক্তৃতা করতে পছন্দ করেন সেটা জানি, কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেটা সম্ভব নয় কেননা আমেরিকার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা যা শুনছেন, কানাডায় বসে কানাডার নাগরিকরা ও একই বক্তব্য শুনছেন। তাই এনালগ যুগের মত সুযোগ বুঝে বক্তৃতা করার দিন শেষ।
তিনি নির্বাচনে জিতেছিলেন এলবোস আপ মেসেজ দিয়ে অর্থাৎ আমেরিকাকে আমরা চাইলে কনুই এর গুতো দিতে পারি কিন্তু আজকে আমেরিকার মাটিতে বসে অন্য সুরে কথা বলছেন।
আসলে করার কিছু নেই কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে। পরপর দুটো ত্রৈমাসিক রিপোর্টে দেখা গেছে কানাডার অর্থনীতির সূচক নেগেটিভ এর দিকে অর্থাৎ সংকুচিত হয়ে গেছে। কানাডার পরিসংখ্যান বিভাগ বলছে, টেক্সটবুক সংজ্ঞার বিচারে কানাডায় অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হল বলে।
এখন মার্ক কারনি আমেরিকায় গিয়ে একসাথে উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক দুর্গ গড়ার কথা বলছেন অথচ মাত্র মাস কয়েক আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামে আমেরিকাকে বাদ দিয়ে অন্য সবার সাথে একেবারে নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। গত সোয়া এক বছর ধরে এই পাঁচমিশালী বক্তব্যই কেবল শুনছি।
আমেরিকার সবচেয়ে গরিব রাজ্যের নাম হচ্ছে আলাবামা। কানাডার বর্তমান হাল আলাবামার চেয়েও খারাপ। এটা আমার কথা নয়, গুগল করে দেখুন, অর্থনীতিবিদরাই বলছেন।
গত বছরের এপ্রিলে নির্বাচনের পর থেকেই শুনে আসছি ন্যাশন বিল্ডিং প্রজেক্ট হবে কিন্তু এ পর্যন্ত কোন প্রজেক্ট এর কাজ শুরু হয়েছে তেমন দেখতে পাই না। অথচ কানাডায় বেকারত্ব বাড়ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রাইভেট কোম্পানিগুলো আগের মত কর্মচারীদেরকে পোষাতে পারছে না। এদিকে আলবার্টা, কুইবেক দুটো প্রদেশই কানাডা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করছে। যারা আলাদা হয়ে যেতে চাইছে তারা ইতিমধ্যে হোয়াইট পেপার মানে শ্বেতপত্র তৈরি করতে শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য আমাদেরকে আর এটিএম হিসেবে ব্যবহার করো না। প্রতিবছর আলবার্টা তাদের রাজস্ব থেকে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার অন্য প্রভিন্স গুলোকে দেয় অথচ পরিবেশের ক্ষতির কথা বলে অন্য প্রভিন্সগুলো ফেডারেল সরকারের উপর চাপ তৈরি করে যাতে আলবার্টার তেল গ্যাস উত্তোলন অনুমতি দেয়া না হয়।
মন্দা অর্থনীতি, সেই সাথে কিছু প্রভিন্স এর আলাদা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কানাডাকে কোথায় নিয়ে যায় দেখা যাক।

