বুকের বাম পাশে ছিল হৃদপিণ্ড আর ডান দিকে ধর্ম

বুকের বাম পাশে ছিল হৃদপিণ্ড আর ডান দিকে ধর্ম - the Bengali Times
আমার বাবার একটি ধর্ম ছিল ছিল বলছি কেন বলা উচিৎ বাবা একটি ধর্ম পেয়েছিলেন

আমার বাবার একটি ধর্ম ছিল। ছিল বলছি কেন বলা উচিৎ বাবা একটি ধর্ম পেয়েছিলেন। স্বভাবতই সেটা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর বাবা মায়ের কাছ থেকে। তাঁর বুকের বাম পাশে ছিল হৃদপিণ্ড আর ডান দিকে ধর্ম। এই নিয়ে তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন সারাটা জীবন।

ধর্ম-নাস্তিক কথাটি একশো বছর আগে এতো শোনা যেত না। সবারই একটি ধর্ম ছিল। আমার বাবার ধর্ম না হলেও তাদের নিজস্ব ধর্ম ছিল। এখনকার মত এতো বেশি ধর্ম-নাস্তিক ছিল না কখনো। যাও দু-একজনকে চিনতো লোকে তারা ছিল তাল গাছের উপর বসে থাকা টিয়ে পাখির মত। সংখ্যায় দু-চারজন। এভাবেই গেছে যুগের পর যুগ।

- Advertisement -

ঠিক কখন থেকে বলা যাবে না কিন্তু কিছু লোকের বদ নজরে পড়ল ধর্ম। লোকগুলো ছিল খুবই বুদ্ধিমান। তাদের পকেট ভরা থাকতো মুনাফার খোঁজ। এই লোকগুলো এবং তাদের বর্তমান প্রজন্ম মানুষের দুর্বলতা খুব ভালো করে বুঝতে পারে এবং মানুষকে দুর্বল করেও দিতে পারে। এরা আলু পটল সোনালী আঁশ পাট কিংবা সোনা চোরাচালান এসমস্ত বাদ দিয়ে ধর্মকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ঝুড়িতে ভরে যেখানে সেখানে বীণ বাজিয়ে মন দোলে মন দোলে করতে লাগলো। এদের কাণ্ড দেখে কেউ কেউ মুখ ফিরিয়ে দূরে চলে গেল। কেউ এদের কারণেই ধর্ম কে অধর্ম বলতে লাগলো। কিন্তু কেউ কেউ আবার স্বাভাবিক ধর্ম আচরণের বাইরে গিয়ে তাদের দিকে বেশি বেশি ঝুঁকে পড়ল। শক্ত মুদ্রার মতো ধর্ম সচল রইলো বটে তবে হয়ে গেল মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। যারা ছেড়ে গেল তারাও যেমন ‘মধু মালতী ডাকে আয়’ গাইছে আবার যারা নতুন করে লেগে রইলো তারাও মাইক বাজিয়ে ‘মধু মালতী ডাকে আয়’ শোনাচ্ছে।

কথা হলো, যতদিন পর্যন্ত আশপাশের একজন নিখাদ ধার্মিক লোককে দেখে ধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ জাগত কিংবা ধর্মে শুধু লাভ আছে লোকসান নেই বা ধর্ম অন্বেষণের ফল এই ভাবনার মধ্যে ডুবে ছিল অর্থাৎ অর্থনীতির সূত্রের মত লাভ ক্ষতি দিয়ে মাপা হয় নি ধর্ম, ততদিন ধর্মের কোন এপিঠ ওপিঠ ছিল না। তখন পর্যন্ত ধর্ম ছিল সলিড গোল্ড। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যবান প্রাপ্তি। কিন্তু যেদিন থেকে কারবারীদের সখের কারবারে ঢুকে গেল সেদিন থেকে ধর্ম কাহাকে বলে কত প্রকার ও কী কী প্রশ্ন উঠতে শুরু করলো। যেখানেই প্রশ্ন সেখানেই পাল্টা সত্য। কাজেই ধর্ম কাহাকে বলে থেকে কাহাকে বলে না জানতে চাইলো মানুষ। প্রশ্নের পাহাড় তুলে কেউ কেউ ধর্ম-নাস্তিক হতে শুরু করলো। জেগে উঠলো নতুন ধারা। আস্তার বিপরীতে অনাস্থা।

পরিশেষে হয়তো বলা যায়, যে সাপ ফণা তুলে সেই সাপ কখনো না কখনো ফণা নামিয়ে ফেলে। মাঝখান থেকে কিছু মানুষ সাপ সাপ বলে চিৎকার করতে শুরু করে এবং ফলশ্রুতিতে কী সাপ, কত বড় সাপ, সাপ ছোট না বড়? এসমস্ত প্রশ্ন জন্ম দেয়।

স্মরণীয়, আজ পর্যন্ত কিন্তু ভালোবাসা কখনো ফণা তোলেনি এবং ভালোবাসা নিয়ে মন দোলে মন দোলে করা হয়নি। আজও তাই ভালোবাসা টিকে আছে সংসারে। ভালোবাসা কাকে বলে কত প্রকার ও কী কী এসব প্রশ্ন করে না কেউ। কাজেই নাস্তিক-ভালোবাসা বলে কিছু নেই। অথবা ভালোবাসায় আস্থা নেই এমন হয়ে ওঠেনি ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ। বলা যেতে পারে ভালোবাসাও সলিড গোল্ড। যদিও দু-চারজনকে পাওয়া যেতে পারে যারা ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ খুঁজতে থাকে। তারাও তাল গাছে বসে থাকা টিয়ে পাখির মতন, সংখ্যায় দু-চারজন।

অতএব ইতি টেনে বলা যায়, আমার বাবা কিংবা তার বাবা এবং সেই সম্প্রদায়ের লোকদের বুকের বাম পাশে ছিল হৃদপিণ্ড আর ডান দিকে ভালোবাসা। ওই একই কথা হলো। ভালোবাসা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে নেই। নাস্তিক-প্রেমিক বলে কিছু নেই।

প্রশ্ন হতে পারে আমার বুকের কোনদিকে কী আছে? উত্তর হলো, আমার বাম দিকে হৃদপিণ্ড আর ডান দিকে আয়না।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles