স্কুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সেলফোন নিষিদ্ধের কথা ভাবছে অন্টারিও

স্কুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সেলফোন নিষিদ্ধের কথা ভাবছে অন্টারিও - the Bengali Times
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্টারিওর শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা।

লন্ডন এলাকায় নতুন স্কুল নির্মাণের ঘোষণা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এখন বড় ধরনের সমস্যা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এলিমেন্টারি ও সেকেন্ডারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এ কারণেই সরকার “ব্যাপকভিত্তিক” সেলফোন নিষিদ্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

- Advertisement -

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা, শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকেও অভিযোগ এসেছে যে, ক্লাস চলাকালে মোবাইল ব্যবহারের কারণে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোসংযোগের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ম্যানিটোবা প্রদেশের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। ম্যানিটোবার প্রিমিয়ার ওয়াব কিনিউ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের পথে হাঁটতে যাচ্ছে তাদের সরকার। তিনি বলেন, ম্যানিটোবা এমন প্রথম প্রদেশ হতে চায়, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ম্যানিটোবার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পল ক্যালান্দ্রা বলেন, অন্টারিও সরকারও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ম্যানিটোবা যে মাত্রার কড়াকড়ির কথা বলছে, অন্টারিও হয়তো ঠিক সেই পর্যায়ে যাবে না। তার ভাষায়, “আমরা বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট বয়সের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই। ফেডারেল সরকারও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ম্যানিটোবা কী ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করছে, তা অন্টারিও সরকার পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে অন্টারিওর বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে উপযুক্ত নীতি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ম্যানিটোবার প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের কোন অংশটি অন্টারিওর কাছে “অতিরিক্ত” মনে হচ্ছে, সে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। অন্যদিকে, ম্যানিটোবা সরকারও এখন পর্যন্ত তাদের পরিকল্পিত বিধিনিষেধের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকাজুড়ে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনলাইন আসক্তি, সাইবার বুলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সরকারগুলো এখন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতিমালা তৈরির দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে অন্য অংশের মত, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে বরং দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

অন্টারিও সরকারের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ এখন অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে এ বিষয়ে প্রাদেশিক ও ফেডারেল পর্যায়ে আরও আলোচনা এবং নীতিগত অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles