
কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটেছে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা—জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে এক নারীকে। ফলে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী মর্জিনা।
ঘটনাটি উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মর্জিনার ফুফাতো ভাই ইয়ামিন তার জন্মনিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করেন। পরে সেই নথি ব্যবহার করে নিজের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারকে ‘মর্জিনা’ পরিচয়ে একটি এনজিও থেকে ঋণ নেন।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ সুমাইয়ার মৃত্যু হলে ঋণ পরিশোধ এড়াতে নতুন কৌশল নেয় ইয়ামিন। তিনি জীবিত মর্জিনাকেই মৃত দেখিয়ে মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এ ঘটনায় হতবাক মর্জিনা বলেন, “আমি সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, অথচ কাগজে-কলমে আমি মৃত! যাচাই-বাছাই ছাড়া কীভাবে এমন সনদ দেওয়া হলো? আমি এর বিচার চাই।”
ভুল স্বীকার করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ। তিনি জানান, সরল বিশ্বাসে তিনি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে সেই স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়।
ধামঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাঈম সরকার বলেন, ইতোমধ্যে মর্জিনার ‘মৃত’ সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে এবং তার জন্মনিবন্ধন পুনরায় সক্রিয় করা হবে।
এ বিষয়ে এ বি এম সারোয়ার রাব্বী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি নথি যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

