কুসুম কুসুম বিরোধিতা ও গণতন্ত্রের বাস্তবতা

কুসুম কুসুম বিরোধিতা ও গণতন্ত্রের বাস্তবতা - the Bengali Times
গত কয়েকদিন ধরে টেলিভিশন ও ইউটিউবের মাধ্যমে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন নিয়মিত দেখছি ও শুনছি

গত কয়েকদিন ধরে টেলিভিশন ও ইউটিউবের মাধ্যমে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন নিয়মিত দেখছি ও শুনছি। তথাকথিত ১১ দলীয় জোট—বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির ‘কুসুম কুসুম বিরোধিতা’ দেখে অনেক সময় হাসিই পায়। কারণ তাদের ভূমিকা অনেকটাই আওয়ামী লীগ আমলের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদের তথাকথিত প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মতো মনে হয়।

তখন বিএনপি সংসদে না থাকায় অধিবেশনগুলো প্রাণবন্ত ছিল না। আজ আবার উল্টো চিত্র—সংসদে আওয়ামী লীগ নেই, ফলে একই ধরনের একপাক্ষিকতা দেখা যাচ্ছে। কার্যত শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি সংসদের কার্যকারিতা ও গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য দুটোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

- Advertisement -

বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা শতাধিক অধ্যাদেশ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আইনগুলোর গুণগত মান কতটা রক্ষা পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে—“ধর মুরগি, কর জবাই” ধরনের তাড়াহুড়ো চলছে। সংসদ সদস্যদের অনেকেই অধ্যাদেশগুলো একবার পড়ে দেখার সুযোগও পাচ্ছেন না; গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা তো দূরের কথা।

আইন প্রণয়ন কোনো ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের মতো হতে পারে না। এগুলো ধীরে, সুপরিকল্পিতভাবে এবং আলোচনার মাধ্যমে পাস হওয়া উচিত ছিল। নইলে শেষ পর্যন্ত “যে লাউ সেই কদু”—পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতিতে। সেটি না থাকলে রাষ্ট্র ও জনগণ উভয়ই ভালো আইন ও নীতিমালা থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দেশের অন্যান্য খাতের মতো আইনপ্রণেতাদের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের উচিত আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রবাহকে মুক্ত করা। যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অপরাধীদের বিচারের নামে পুরো একটি রাজনৈতিক শক্তিকে অকার্যকর করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যেন তার অস্তিত্বই নষ্ট না হয়—এই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

রাজনীতিতে কৌশল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যেন অপকৌশলে পরিণত না হয়। সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে তুলতে হলে ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি এবং সহনশীলতার বিকল্প নেই।

বর্তমান বিএনপি সরকারকে আপাতদৃষ্টিতে জনকল্যাণমুখী মনে হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা জামায়াতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে—এমন একটি ধারণাও তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বলেই মনে হচ্ছে।

এখন সময় এসেছে বিএনপির নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার। দলকে গা ঝাড়া দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণ তাদের পাশে আছে—এ বিশ্বাস থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।

বিঃদ্রঃ লেখার সঙ্গে তেলের পিঠার কোনো সম্পর্ক নেই।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles