সর্ষের মধ্যে ভূত

সর্ষের মধ্যে ভূত - the Bengali Times
মেটা সব সময়ই এরকম সর্তকতা এবং সুরক্ষা দিয়েছে আমাকে তাই ওদের পাঠানো মেসেজটা কে আমি বিশ্বাসই করেছিলাম

যে সর্ষ দিয়ে ভূত ছড়াবো তার মধ্যেই ভূত এমন ঘটনাই ঘটে গেল দুদিন আগে আমার সাথে। একটা গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখছিলাম বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম পরপর বেশ কিছু লেখা ফেসবুকে প্রকাশ করব।

লেখাটা শেষ করেই ঘুমোতে যাব তেমনি ইচ্ছা। ল্যাপটপের মধ্যে ফেসবুক খোলা ছিল।

- Advertisement -

কাজ শেষে ফেসবুক থেকে লগ আউট করতে গিয়ে দেখলাম, মেটা থেকে একটা মেসেজে এসেছে। আমি নাকি তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এর বিরুদ্ধে কিছু করেছি। এত বছরের মধ্যে মেটা কখনো আমাকে কোন ওয়ার্নিং আগে দেইনি কিন্তু হঠাৎ করে কেউ রিপোর্ট করেছে মেটাকে আমার নামে। তাই একটা লিংকটি দিয়েছে সেখানে আমাকে নতুন করে লগইন করতে হবে। নয়তো আমার ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হবে চিরতরে । সাধারণত কোন লিংকে ক্লিক করা বা পাসওয়ার্ড দেওয়ার ব্যাপারে খুবই সাবধানতায় আমি অবলম্বন করি এবং এড়িয়ে চলি।

কিন্তু মেটা যখন নিজে পাঠিয়েছে ঘুম ঘুম অবস্থায় খুব একটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে। ভেবেছিলাম ফেসবুক বন্ধ করে দেয়ার আগে পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্লিয়ার করে রাখি বিষয়টা। মেটা এর আগে আমাকে দুই একবার নতুন করে লগইন করতে বলে মেসেজ দিয়েছিল যখন আমি বিভিন্ন লোকেশনে বেড়াতে গিয়েছি সে সময় আবার লগইন করতে বলেছে। তাই বিষয়টা সেভাবেই আমি নিয়েছিলাম। অনেক সময় যখন আমি ঘুরতে যাই তখন অন্য লোকেশন থেকে লগইন করলে ওরা ভেরিফিকেশন এর জন্য কোড পাঠায় তো আমি ভেবেছিলাম সেরকমই একটা কিছু।

বছর দশেক আগে বেলজিয়াম বেড়াতে গিয়েছি। সে সময়টা হ্যালোইনের সময় ছিল। যাওয়ার দুদিন আগে আমি প্রোফাইলের ছবি ম্যাট গডেসের সাজে দিয়েছিলাম । সারাদিন ঘুরে ফিরে বাড়িতে এসে ফেসবুক খুলে দেখলাম, আমার ছবি দিয়ে কেউ একটি একাউন্ট বানিয়েছে, ফেসবুক সেই একাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে, সেটা আমাকে জানিয়েছে।

মেটা সব সময়ই এরকম সর্তকতা এবং সুরক্ষা দিয়েছে আমাকে। তাই ওদের পাঠানো মেসেজটা কে আমি বিশ্বাসই করেছিলাম।

এবং নিশ্চিন্ত মনে পাসওয়ার্ড দিয়ে দিয়েছিলাম। আমি যে ওদের বিরুদ্ধে কোন কাজ করিনি সেটা তো আমার পোস্ট যারা দেখেন, তারা জানেনই। তারপরেও কখন কারা শত্রুতা করে রিপোর্ট করেছে কোন কারণে হয়তো বা আমার জানা নেই। তাই ওদের পাঠানো মেসেজটা বিশ্বাস করে আমি পাসওয়ার্ড দিয়েছিলাম।

রাত অনেক হওয়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমার ঘুম ভাঙ্গার আগেই ফোন পেয়ে জেগে উঠতে হলো যারা আমার ফেসবুক ইতিমধ্যে দেখেছে তারা জানালো আমার ফেসবুক হয়তো হ্যাক হয়েছে। ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম অসংখ্য মেসেজ পাঠানো হয়েছে। যে মেসেজের লিংকে আমি দেখতে পাচ্ছি, আমার বিরুদ্ধে ফেসবুক সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে।

কিন্তু বন্ধুরা সেখানে দেখছে আজেবাজে ছবি, ভিডিও। কত রকমের অদ্ভুতভাবে ডিজিটাল পদ্ধতি এখন ব্যবহার করে আমি তো এত কিছুতে অভ্যস্ত নই, বুঝতেও পারি না।

মেটার নামে আমাকে যে মেসেজ পাঠিয়েছে সেটাই হ্যাকার।

ঘোড়ার ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মত মেটার নামেই, মেটার সদস্যদের আক্রান্ত করছে।

এ আইর যুগে কত কিছু সম্ভব। আমার মত সাধারন মানুষের সব কিছু বোঝা সম্ভব না।

ঘুম ভেঙ্গে উঠে সকাল থেকে তাই সেই হ্যাক হওয়া ফেসবুক উদ্ধার করতে মোটামুটি একটা দিন, একটা ভেজালের মধ্যে কেটে গেল।

ফেসবুক হেল্প সেন্টারে অনেক যোগাযোগ করে কমপ্লেন জানিয়ে এবং অনেক কিছু খোঁজার পরে, পেলাম সুদূর ব্রিটিশ কলম্বিয়া কানাডা থেকে কেউ একজন আমার ফেসবুকে লগইন হয়ে আছে। যেটা অস্বাভাবিক। এবং সেই লগইনটা আউট করার পরই আমার ফেসবুকটা আবার সুরক্ষিত হল।

ফেসবুকের জন্ম লগ্ন থেকে ব্যবহার করে আসছি ফেসবুক। এর মধ্যে কখনোই এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। বহু সতর্ক থাকার পরেও নিজেই দিয়ে দিয়েছি হ্যাকারকে পাসওয়ার্ড। ঢুকে পড়েছে আমার একাউন্টের ভিতরে । মেটা সিকিউরিটি আমার অ্যাকাউন্টের সমস্ত কিছুই সংরক্ষিত করে আমার নাম দিয়ে দিয়েছে মেটা ভেরিফাইড।

ভালো লেগেছে দেখে আমার কোন ছবি লেখা কমেন্টস নষ্ট হয়নি সবকিছুই সংরক্ষিত আছে।

তবে বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে নোংরা ভাবে এটা একটা ক্ষতির দিক। এভাবে এ আই দিয়ে সমস্ত কিছু ক্লোন করে ফেললে খুবই যন্ত্রনার বিষয়।

একটা এআই চ্যাট ওপেন হয়ে আমার সাথে কথা বলছিল আমার অ্যাকাউন্ট হেল্প করার জন্য পরে বুঝতে পারলাম ওটাও হ্যাকার্ডেদের, যখন ওরা আমার ব্যক্তিগত ইনফরমেশন চাচ্ছিল যোগাযোগ করার জন্য। আমি ভেবেছিলাম এ আই হেল্প চ্যাট।

আনন্দ করার জন্য মেট দা গডেস সেজেছিলাম হ্যালোইনের সময়। আর এখন আমার একাউন্ট মেটা ভেরিফাইড এই নামে করে রেখেছে ফেইসবুক সুরক্ষার জন্য। ফেসবুকে নিয়ম অনুযায়ী ষাট দিন পরে এই নাম পরিবর্তন করতে পারবো। তার আগ পর্যন্ত ফেসবুকের দেওয়া নতুন নাম, “মেটা ভেরিফাইড” নিয়েই চলতে হবে। আমার সব পোস্টের আগে আমি আমার নিজের নামটা লিখে দিব আশা করি বন্ধুদের অসুবিধা হবে না আমাকে চিনে নিতে সেজন্য।

কিছুদিন পরে নিজের নামে ফিরে যাব। ইচ্ছে হলে অন্য কোন নতুন নামও নিতে পারি। বন্ধুরা আমার নাম সাজেশন করতে পারেন। ভালো থাকবেন সবাই।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles