
কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চালু হতে যাচ্ছে নতুন একটি ব্যবস্থা অকুপেশনাল এক্সপোজার রেজিস্ট্রি। এ ধরনের উদ্যোগ সমগ্র কানাডায় এই প্রথম।
শুক্রবার এ ঘোষণা দেন অন্টারিওর শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনি। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এলে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সহজেই তা জানাতে পারবেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, অন্টারিওর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এখানকার শ্রমশক্তির ওপর। তাই কর্মক্ষেত্রে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, নতুন এই রেজিস্ট্রি কর্মীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে সহায়তা করবে এবং পেশাগত রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে।
এই পোর্টালের মাধ্যমে কর্মীরা বেনামে তথ্য জানাতে পারবেন। কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর ১১টি উপাদানের যেকোনো একটির সংস্পর্শে এলে তারা কখন এবং কীভাবে সেই ঝুঁকির মুখে পড়েছেন তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সেখানে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এবং কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কি না সেসব বিষয়ও জানাতে পারবেন।
এই রেজিস্ট্রিতে যেসব ক্ষতিকর উপাদানের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে তার মধ্যে রয়েছে সিলিকা, সিসা (লেড), পারদ (মারকারি) এবং অ্যাজবেস্টসসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসার ঘটনা অনেক সময়ই রিপোর্ট করা হয় না। নতুন এই উদ্যোগ সেই প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এসব উপাদানের কারণে সৃষ্ট রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অ্যাজবেস্টসের সংস্পর্শে এলে মেসোথেলিওমা নামের মারাত্মক রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে প্রায় ২০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই সময়মতো তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

