
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি খবরে দাবি করা হয় যে, কানাডা ২০২৬ সাল থেকে তাদের ওপেন ওয়ার্ক পারমিট কর্মসূচি বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে বলেছে, ওপেন ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং ২০২৬ সালে কর্মসূচি শেষ হচ্ছে এমন খবর ভুয়া।
গত কয়েক সপ্তাহে কিছু অনানুষ্ঠানিক ও অযাচাইকৃত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেসব তথ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়। উদ্দীপক শিরোনাম ও আতঙ্কসৃষ্টিকারী ভাষার কারণে অনেকেই যাচাই না করেই খবরটি শেয়ার করেন। ফলে বিশেষ করে নবাগত ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
অন্টারিওভিত্তিক লাইসেন্সধারী প্যারালিগ্যাল অ্যাপল অ্যাপুন্টার এ ধরনের সংবাদকে বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার ভাষায়, “অভিবাসন একটি আইনি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়। এটি ফেসবুকের লাইক বা শেয়ার দিয়ে নির্ধারিত হয় না।” তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কোনো পরিবর্তন কার্যকর হয় না। উত্তেজনাপূর্ণ উপস্থাপনার কারণেই খবরটি দ্রুত ছড়িয়েছে বলে তার মত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কানাডার অভিবাসন নীতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা-এর ইমিগ্রেশন লেভেল পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার অভিবাসী গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। একই সংখ্যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, সরকার অভিবাসন কার্যক্রম বন্ধ নয়, বরং কাঠামোবদ্ধভাবে অব্যাহত রাখার দিকেই এগোচ্ছে।
ফিলিপিনো অ্যাডভোকেট ও সেটেলমেন্ট কাউন্সেলর কেলি বোটেনগান বলেন, অপতথ্যের বিস্তার এমন একটি কমিউনিটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যারা আগে থেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, যখন মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তখন তারা অনলাইনে পাওয়া যেকোনো তথ্য সহজেই বিশ্বাস করে ফেলতে পারে।
বোটেনগান অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা বা সংশয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি লিগ্যাল ক্লিনিক বা লাইসেন্সধারী পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, অনেক লিগ্যাল ক্লিনিক বিনামূল্যে প্রাথমিক পরামর্শ দিয়ে থাকে। যদি কোনো বিষয় তাদের এখতিয়ারের বাইরে হয়, তারা সাধারণত উপযুক্ত আইনজীবী বা আইনি পরামর্শদাতার কাছে রেফার করেন।
ওমনি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালে ওপেন ওয়ার্ক পারমিট কর্মসূচি শেষ হচ্ছে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। সংস্থাটি সবাইকে অনুরোধ করেছে, অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে হলে সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের খবর সাধারণত উচ্চমাত্রার আগ্রহ ও আবেগ তৈরি করে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান ও স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন এসব বিষয় জড়িত থাকায় মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই মনস্তাত্ত্বিক উপাদানই ভুয়া তথ্যকে দ্রুত ভাইরাল হতে সহায়তা করে।
অতএব, ওপেন ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ হচ্ছে এমন দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বার্তা স্পষ্ট: যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস নয়, বরং নির্ভরযোগ্য সরকারি উৎসই হওয়া উচিত একমাত্র ভরসা।

