এস্টি লাউডারকে সাড়ে ৭ লাখ ডলার জরিমানা

এস্টি লাউডারকে সাড়ে ৭ লাখ ডলার জরিমানা - the Bengali Times
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি আদালত আন্তর্জাতিক প্রসাধন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এস্টি লাউডার কসমেটিকস লিমিটেডকে ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি আদালত আন্তর্জাতিক প্রসাধন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এস্টি লাউডার কসমেটিকস লিমিটেড–কে ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে। কানাডার পরিবেশ সুরক্ষা আইনের বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর এই জরিমানা আরোপ করা হয়। নির্বাচিত কিছু আইলাইনার পণ্যে নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক উপাদান যা সাধারণভাবে ‘ফরএভার কেমিকেল’ নামে পরিচিত ব্যবহারের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি দায় স্বীকার করেছে।

কানাডার কানাডিয়ান এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট–এর অধীনে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থ বাজারে আনার আগে সরকারকে তা জানানো বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে যেসব উপাদান পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ‘সিগনিফিকেন্ট নিউ অ্যাক্টিভিটি’  নোটিশের আওতায় আগাম অনুমোদন নিতে হয়।

- Advertisement -

তদন্তে দেখা যায়, এস্টি লাউডারের কিছু আইলাইনার পণ্যে পারফ্লুরোনোনিল ডিমেথিকোন নামের একটি সিলিকন পলিমার ব্যবহৃত হয়েছে। এই উপাদানটি পিএফএএস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা পরিবেশে সহজে ভাঙে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে। এ কারণেই এগুলোকে ‘ফরএভার কেমিকেল’ বলা হয়। সাধারণত প্রসাধনী পণ্যের স্থায়িত্ব, জলরোধী ক্ষমতা ও মসৃণতা বাড়াতে এই ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শনের সময় কোম্পানির আইলাইনারে সিলিকন পলিমারের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। প্রায় তিন বছর তদন্ত ও প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই জরিমানা ঘোষণা করে।

সরকারি তদন্তে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের নতুন কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৮ জুন জারি করা একটি কমপ্লায়েন্স আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় কোম্পানিটি দায় স্বীকার করে।

২০২৩ সালের জুনে দেওয়া আদেশে কোম্পানিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রির আগে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে এবং কানাডার কানাডিয়ান এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট–এর বিধান মেনে চলতে হবে। তাতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা ছিল।

সরকারের মতে, এসএনএসি নোটিশের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান বাজারে আসার আগেই তা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করা। এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কসমেটিকস কানাডা অ্যালায়েন্স ২০২২ সালের জুনেই সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, পারফ্লুরোনোনিল ডিমেথিকোন ব্যবহার করতে হলে এসএনএসি নোটিশের শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, বাজারে পণ্য ছাড়ার আগে উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক।

এই ঘটনার পর পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কারণ এসব পণ্য সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহ ও পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই শর্তগুলো সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগাম তথ্য জানলে তারা স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে পারে এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিমানা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং পুরো প্রসাধনী শিল্পের জন্য একটি সতর্ক সংকেত। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হলেও স্থানীয় আইন ও পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে অন্টারিওর আদালতের রায়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles