মেডিকেল রেকর্ডে প্রবেশ উন্নত করতে বিল ফেরাচ্ছে লিবারেল সরকার

মেডিকেল রেকর্ডে প্রবেশ উন্নত করতে বিল ফেরাচ্ছে লিবারেল সরকার - the Bengali Times
কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ভঙ্গুরতা ও বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে ফেডারেল সরকার আবারও সামনে আনল বহুল আলোচিত কানেক্টেড কেয়ার ফর কানাডিয়ান্স অ্যাক্ট

কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ভঙ্গুরতা ও বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে ফেডারেল সরকার আবারও সামনে আনল বহুল আলোচিত ‘কানেক্টেড কেয়ার ফর কানাডিয়ান্স অ্যাক্ট’। বুধবার লিবারেল সরকার বিলটি পুনরায় উপস্থাপন করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো আইনটি উত্থাপন করা হয়েছিল, তবে তা পাসের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। নতুন করে বিলটি সামনে আনার মধ্য দিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করা এখন অগ্রাধিকারের বিষয়।

ফেডারেল সরকারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে খণ্ডিত এবং পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে একজন রোগী যদি এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যান, তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সহজে আদান-প্রদান করা যায় না।

- Advertisement -

এই অসামঞ্জস্যতার কারণে দ্রুত চিকিৎসা হস্তক্ষেপে বিলম্ব ঘটে, জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে পাওয়া যায় না, এমনকি ভুল রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রোগীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ উপায়ে শেয়ার করার সক্ষমতা না থাকলে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন।

‘বিল এস-৫’ শীর্ষক প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে স্বাস্থ্য খাতে “আন্তঃপরিচালন শর্ত” প্রতিষ্ঠা করা হবে। অর্থাৎ, যেসব কোম্পানি ইলেক্ট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড সিস্টেম তৈরি বা সরবরাহ করে, তাদের একটি অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।

এর ফলে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন তথ্য বিনিময় সম্ভব হবে। প্রদেশ ও অঞ্চলভেদে আলাদা সিস্টেম থাকলেও, রোগীর তথ্য এক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে সহজে স্থানান্তর করা যাবে।

স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যকর হলে কানাডার স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত বিভাজন অনেকটাই কমবে।

আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “ডেটা ব্লকিং” নিষিদ্ধ করা। বর্তমানে কিছু স্বাস্থ্য তথ্য কোম্পানি বিভিন্ন কারণে তথ্য বিনিময়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে যা কখনও বাণিজ্যিক স্বার্থ, কখনও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার অজুহাতে হয়ে থাকে।

নতুন আইন পাস হলে কোম্পানিগুলো রোগীর তথ্যের প্রবেশাধিকার বা বিনিময় বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তথ্য শেয়ারিং হবে নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে, এবং প্রযোজ্য গোপনীয়তা আইন অনুসরণ করেই।

হেলথ কানাডার এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “বেটার কানেক্টেড কেয়ার” ব্যবস্থা রোগীদের জন্য অধিকতর নিরাপদ, সমন্বিত এবং উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করবে।

চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও এর সুফল রয়েছে। একই রোগীর তথ্য বারবার সংগ্রহের প্রয়োজন কমবে, পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি হ্রাস পাবে, এবং প্রশাসনিক চাপ কমে আসবে। ফলে চিকিৎসকরা রোগীর সরাসরি সেবায় বেশি সময় দিতে পারবেন।

রোগীদের জন্যও এটি ক্ষমতায়নের একটি ধাপ। তারা নিজেদের স্বাস্থ্য তথ্য সহজে দেখতে ও ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন, চিকিৎসা সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবেন।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইন পাস করাই শেষ কথা নয়। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হবে জটিল ও সময়সাপেক্ষ। প্রাদেশিক সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে এই আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর প্রয়োগ ও স্বচ্ছ তদারকির ওপর।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ‘কানেক্টেড কেয়ার ফর কানাডিয়ান্স অ্যাক্ট’ কানাডার ডিজিটাল স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও তথ্যের নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে এটি দেশের লাখো রোগীর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles