
টরন্টো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত সপ্তাহ থেকে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মহাসড়কের ওপর জমে থাকা তুষারের স্তূপ (স্নোব্যাঙ্ক) পেরিয়ে অন্তত চারটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে বলে জানিয়েছে অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ (ওপিপি)। পুলিশ বলছে, কেবল আবহাওয়াকে দায়ী করলেই হবে না চালকদের সতর্কতার ঘাটতিও এসব দুর্ঘটনায় বড় ভূমিকা রাখছে।
গত মাসে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতের পরও গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার (জিটিএ) বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে এখনো বড় বড় তুষারের স্তূপ রয়ে গেছে। ২৫ জানুয়ারি টরন্টোর কিছু এলাকায় প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার জমেছিল। ব্যস্ত মহাসড়কগুলো পরিষ্কার করা হলেও রাস্তার ধারে ও র্যাম্পের মুখে জমে থাকা তুষার অনেক জায়গায় পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে এসব স্তূপ যেন এক ধরনের অদৃশ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।
ওপিপির সার্জেন্ট কেরি শিমিড্ট স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তুষারঝড়ের পরপরই যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এবং রাস্তার পাশে তুষারের স্তূপ থেকে যায়, তাহলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই স্তূপ বেয়ে ওপরে উঠে যেতে পারে। এতে গাড়ি মূল সড়ক থেকে ছিটকে অন্য লেনে বা বিপরীতমুখী সড়কে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাইওয়ে ৪২৭-এ একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ওভারপাস অতিক্রম করে বিপরীতমুখী সড়কে পড়ে যায়। পরে সেটি হাইওয়ে ৪০১-এ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুজন আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওপিপি জানিয়েছে, তুষারের স্তূপ এবং অতিরিক্ত গতি উভয় কারণই এই দুর্ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালীন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্রেকিং দূরত্ব বেড়ে যায়। তাছাড়া সড়কের পৃষ্ঠে বরফ বা চাপা তুষার থাকলে চাকা স্লিপ করার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে।
৩০ জানুয়ারি নায়াগ্রা ফলস এলাকায় হাইওয়ে ৪২০-এর একটি র্যাম্পে এক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুষারের স্তূপে আঘাত করেন। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৬ জানুয়ারি কিচেনারে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন চালক একই ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েন। পুলিশ বলছে, শীতকালীন সড়ক পরিস্থিতিতে চালকদের ধীরগতিতে ও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে, এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? শুধুই কি অস্বাভাবিক তুষারপাত, নাকি চালকদের অসতর্কতা? ওপিপি বলছে, আবহাওয়া অবশ্যই একটি বড় কারণ, তবে শীতকালীন ড্রাইভিংয়ের নিয়ম না মানা, গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সঠিক দূরত্ব বজায় না রাখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
পুলিশের পরামর্শ, শীতকালে গাড়ির শীতকালীন টায়ার ব্যবহার, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে মহাসড়কের র্যাম্প ও ওভারপাস এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, তাপমাত্রা ওঠানামার ফলে দিনের বেলায় গলে যাওয়া তুষার রাতে আবার বরফে পরিণত হতে পারে। ফলে সড়কের ওপর ‘ব্ল্যাক আইস’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় শীতকালীন সড়ক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে গেলেও চালকদের দায়িত্বশীল আচরণই দুর্ঘটনা কমাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এমনটাই মত সংশ্লিষ্টদের।

