
গত মাসে হ্যামিল্টনে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অটিজমে আক্রান্ত সাত বছরের শিশু ম্যাক্স সিমাওয়ের মৃত্যুর ঘটনা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা ও তহবিলের ঘাটতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নিহত শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন ম্যাক্সের স্কুলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম ও জনবলের অভাবে সেদিন তাকে স্কুল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ম্যাক্সের বাবা ক্রিস সিমাও এবং মা এমিলি সিমাও বলেন, গত অক্টোবর মাসে তাদের ছেলের স্কুল সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ম্যাক্সের জন্য কাজ করার মতো কোনো শিক্ষা সহায়ক (এডুকেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলেই তাকে পূর্ণদিবসের পরিবর্তে সীমিত সময়ের জন্য স্কুলে আসতে বলা হয়।
ম্যাক্স অটিজমে আক্রান্ত ছিল এবং সে কথা বলতে পারত না। বাবা-মায়ের ভাষায়, স্কুল ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। কিন্তু সহায়তার অভাবে তাকে ধীরে ধীরে মূল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
১১ ডিসেম্বর বিকেলে হ্যামিল্টন স্ট্রিট রেলওয়ের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় ম্যাক্স। সে সময় সে তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে ফিরছিল। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
হ্যামিল্টন পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যাতে মনে হয় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পেছনে বাসচালক বা শিশুটির কেয়ারগিভারের ইচ্ছাকৃত কোনো গাফিলতি বা অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল।
তবে সিমাও পরিবার মনে করছে, এই মৃত্যু শুধুই একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা তহবিল সংকট এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি ব্যবস্থাগত অবহেলার ফল। তাদের অভিযোগ, পরিবর্তিত সময়সূচির মধ্যে ফেলে দিয়ে ম্যাক্সের শিক্ষার মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছিল।
ক্রিস সিমাও বলেন, “আমরা মনে করি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি রাগে, কষ্টে পাগলপ্রায়। আজও আমাদের ছেলেটা আমাদের সঙ্গে থাকার কথা ছিল।”
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে অন্টারিও অটিজম কোয়ালিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেট ডিউডলি-লগ গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অন্টারিওতে বিশেষ শিক্ষার চাহিদাসম্পন্ন প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পুরো দিনের জন্য স্কুলে যেতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো তাদের সহায়তা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও রসদের অভাব।
ডিউডলি-লগের তথ্যমতে, গত বছর প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে স্কুলের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি এই পরিস্থিতিকে “শিক্ষাব্যবস্থার নীরব সংকট” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি অন্টারিওর ফোর্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ শিক্ষাকর্মী নিয়োগসহ স্কুলগুলোতে দ্রুত এবং পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ জরুরি। তার মতে, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে আরও অনেক পরিবারকে সিমাও পরিবারের মতো অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ম্যাক্সের মৃত্যু এখন কেবল একটি পরিবারের শোকের গল্প নয় এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং অধিকার নিয়ে পুরো ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

