৪০% নবজাতকের মায়ের জন্ম কানাডার বাইরে

৪০% নবজাতকের মায়ের জন্ম কানাডার বাইরে - the Bengali Times
কানাডার সাম্প্রতিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনে বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে

কানাডার সাম্প্রতিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তনে বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির বার্ষিক শিশু জন্মের হারে এই অভিবাসী মায়েদের অবদানের ওপর আলোকপাত করেছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা। সংস্থাটির হিসাব বলছে ২০১০ সালের পর যদি এই বিদেশি মায়েরা কানাডায় না থাকতেন, তাহলে দেশের জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত।

২০২৪ সালে কানাডায় জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে সেইসব নারীর গর্ভে, যাদের জন্ম কানাডায় হয়নি। তুলনায়, ১৯৯৭ সালে এই হার ছিল মাত্র ২২.৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় চ্যালেঞ্জ হলো কম প্রজনন হার এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়া। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি মায়েরা দেশের জনসংখ্যাগত স্থিতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ৪০ বছরের বেশি বয়সী যে নারীরা নতুন মা হয়েছেন, তাদের ৫৭ শতাংশই ছিলেন বিদেশে জন্ম নেওয়া। অর্থাৎ বয়স্ক বয়সে সন্তানধারণে অভিবাসী নারীদের অংশগ্রহণ কানাডিয়ান নারীদের তুলনায় অনেক বেশি।

জনসংখ্যাবিদদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়ার বড় কারণগুলোর একটি হলো কানাডায় দেরিতে বাবা-মা হওয়ার প্রবণতা। তবে বিদেশি নারীরা দেশটিতে আসার পর তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তান জন্ম দেন ফলে সামগ্রিক জন্মহারে তাদের অবদান দৃশ্যমান।

১৯৯৭ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ৭৮৫। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৭ অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলছে, নতুন অভিবাসীদের ঢল এবং পরিবারসহ কানাডায় স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বিদেশি মায়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ২.৩ শতাংশ কমে যায় যা সাম্প্রতিক প্রবণতার সবচেয়ে বড় পতন।

২০১৯ সালে বিদেশি মায়েদের সন্তানজন্ম ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৫১৬, যা ২০২০ সালে কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৪। এই সময়টিই ছিল কোভিড–১৯ মহামারির প্রথম বছর, যে বছর কানাডায় মোট জন্মহার ১৯৪৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারির অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভ্রমণবিধিনিষেধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন।

মহামারির পর কানাডায় অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জন্মহারের ওপরও। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে বিদেশি মায়েদের সন্তানজন্ম বৃদ্ধি পায় ৩.৪%, ২০২৩ সালে বৃদ্ধি হয় ৮.৯% আর ২০২৪ সালে এই বৃদ্ধির হার পৌঁছায় ১১.৭%–এ।

প্রতিবেদন বলছে, কানাডার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, অভিবাসন কোটা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি ত্বরান্বিত হওয়ায় বিদেশি মায়েদের শিশুজন্ম আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা মনে করে, ভবিষ্যতে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের অবদান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জন্মহারের নিম্নমুখী প্রবণতা কাটাতে কানাডা যেমন অভিবাসী গ্রহণ করছে, তেমনি অভিবাসী নারীরাই দেশে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles