স্যাবের ফাইটার জেট কিনলে কানাডায় নতুন কর্মসংস্থান হতে পারে ১০ হাজার

স্যাবের ফাইটার জেট কিনলে কানাডায় নতুন কর্মসংস্থান হতে পারে ১০ হাজার - the Bengali Times
স্টকহোমে স্যাবের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল জোহানসন এ তথ্য নিশ্চিত করেন

সুইডিশ প্রতিরক্ষা ও এয়ারস্পেস কোম্পানি স্যাব (Saab) ঘোষণা করেছে কানাডা যদি তাদের গ্রিপেন (Gripen) যুদ্ধবিমানকে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে দেশটিতে নির্মাণ, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের খাতে প্রায় ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্টকহোমে স্যাবের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল জোহানসন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রিপেনকে পুরোপুরি কানাডার মাটিতে তৈরি করা সম্ভব এবং সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, চূড়ান্ত সংযোজন (ফাইনাল অ্যাসেম্বলি) এবং পরীক্ষা–নিরীক্ষা কানাডাতেই সম্পন্ন করা যাবে।

- Advertisement -

জোহানসন জানান, কানাডার এয়ারস্পেস শিল্পের বড় তিন প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার (Bombardier), সিএই (CAE) এবং নোভা স্কশিয়াভিত্তিক আইএমপি অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স (IMP Aerospace & Defence) এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল অংশীদার হতে পারে।

তিনি বলেন, “কানাডা যদি নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করতে চায় গ্রিপেনের যন্ত্রাংশ বানাতে চায়, চূড়ান্ত সংযোজন ও পরীক্ষার কাজ নিজেদের দেশে করতে চায় স্যাব এতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে কানাডাকে পূর্ণ সহায়তা করতে পারি।” স্যাব আরও জানিয়েছে, তারা চাইলে বোম্বার্ডিয়ারের সঙ্গে নতুন যৌথ কোম্পানি (Joint Venture) গঠন করতে প্রস্তুত। আর যদি আগে থেকেই থাকা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রয়োজন হয়, তাতেও তারা রাজি।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কানাডায় একটি নতুন অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট গড়ে উঠতে পারে, অথবা বিদ্যমান কোনো এয়ারস্পেস কারখানাকে রূপান্তর করে গ্রিপেন অ্যাসেম্বলি লাইন তৈরি করা হবে। স্যাবের ধারণা, চুক্তি হলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই কানাডায় তৈরি প্রথম গ্রিপেন যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ানো সম্ভব।

জোহানসন উল্লেখ করেন, গ্রিপেন এমন একটি যুদ্ধবিমান যা শুধুমাত্র কানাডার সশস্ত্র বাহিনীই নয়, ইউক্রেনের মতো দেশও ব্যবহার করতে পারবে। ইউক্রেন ইতোমধ্যেই তাদের বহরে ১০০টি গ্রিপেন জেট যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সুইডেনের জনসংখ্যা মাত্র ১০ মিলিয়ন। উৎপাদন বাড়াতে গেলে প্রকৌশলী ও দক্ষ শ্রমিকের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পারস্পরিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।”

জোহানসন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে দেশগুলো উদ্বিগ্ন কানাডা তাদের অন্যতম। একই ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ থাকা দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে কেবল প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়ে না, বরং এয়ারস্পেস শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়। “এটি শুধু বাণিজ্যিক চুক্তি নয় এটি সমমনা দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সুযোগ,” মন্তব্য করেন স্যাব সিইও।

কেন স্যাব কানাডাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে?

১. আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি

কানাডার আর্কটিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন বাড়ছে। গ্রিপেনের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় অভিযোজন ক্ষমতা এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা।

২. যুক্তরাষ্ট্রের F-35 এর বিকল্প হিসেবে গ্রিপেন

কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই অপর বিকল্পও বিবেচনা করছে। স্যাব চায় কানাডা যেন শুধু ক্রেতা না হয়ে, উৎপাদন অংশীদারও হয়।

৩. এয়ারস্পেস শিল্পে বিশাল কর্মসংস্থান রাজনৈতিক সুবিধা

১০ হাজার নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতি কানাডার সরকারকে রাজনৈতিকভাবেও আকৃষ্ট করতে পারে।

স্যাবের ঘোষণায় স্পষ্ট গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে কানাডা যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি হবে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে দেশের জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট। এখন দেখা বাকি, অটোয়া শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেয় F-35 এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোটশক্তি বজায় রাখা, নাকি স্যাবের সঙ্গে আরও গভীর প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে যাওয়া।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles