দাবানলের ধোঁয়া দূষণে কানাডায় বছরে ১৪০০ জনের মৃত্যু

দাবানলের ধোঁয়া দূষণে কানাডায় বছরে ১৪০০ জনের মৃত্যু - the Bengali Times
কানাডায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া দূষণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে

কানাডায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া দূষণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত সর্বাধিক বিস্তৃত সংকলন ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন অন হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০–২০২৪ মেয়াদে দাবানলজনিত ধোঁয়া দূষণ ২০০৩–২০১২ সালের তুলনায় গড়ে ১৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকদের মতে, এ বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনই প্রধান কারণ। দাবানলের মৌসুম এখন আরও দীর্ঘ হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে। ফলে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল অসুখ বেড়ে চলছে কানাডায়।

- Advertisement -

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের দূষণ বৃদ্ধির ফলে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসতন্ত্র–সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে, গত বছর কানাডিয়ানরা প্রায় ছয়দিন তীব্র তাপদাহের মুখে পড়েন যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া ঘটত না। তাপদাহের কারণে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

২০২৩–২৪ সালে তাপদাহের কারণে ৪ কোটির বেশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা নব্বইয়ের দশকের তুলনায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। এর আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১.৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) ডলার। এ ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে নির্মাণ খাত থেকে, যেখানে শ্রমিকদের বহিরাঙ্গনে কাজ করতে হয়।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন আগামী মাসে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি টরন্টোতে জি–৭ দেশের পরিবেশ ও জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকও রয়েছে সামনেই।

গবেষকরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, দশকের পর দশক বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব এখনো বিপর্যয়কর উষ্ণতার দিকে এগোচ্ছে। নানা দেশের নীতিনির্ধারকরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে স্বাস্থ্য–জলবায়ু সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক সত্যকে পুরোপুরি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

প্রতিবেদনের ভাষ্য জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক শিল্প এখনো বিপুল লাভের সুবিধা নিচ্ছে, এমনকি জলবায়ু প্রতিশ্রুতিতে বিরতি দেওয়া বা পেছানোর মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, অনেক ব্যাংক এখনো এ খাতে বড় অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে বিপদের মুখে পড়ছে।

ল্যানসেট কাউন্টডাউন প্রতিবেদনের সামগ্রিক বিশ্লেষণ ইঙ্গিত করছে জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়; এটি এখনই স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে। দাবানল থেকে ধোঁয়া, তাপদাহ, শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ সবকিছুই কানাডার জনস্বাস্থ্যের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং জলবায়ুবান্ধব নীতি গ্রহণ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

এটি কেবল কানাডার জন্য নয় সারা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles