স্পিড ক্যামেরা বাতিলের ব্যয় বহনের জন্য ফোর্ডের প্রতি মেয়রদের আহবান

স্পিড ক্যামেরা বাতিলের ব্যয় বহনের জন্য ফোর্ডের প্রতি মেয়রদের আহবান - the Bengali Times
অন্টারিও জুড়ে স্পিড ক্যামেরা নিষিদ্ধ করার প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একযোগে অবস্থান নিয়েছে প্রদেশের বহু মিউনিসিপালিটি

অন্টারিও জুড়ে স্পিড ক্যামেরা নিষিদ্ধ করার প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একযোগে অবস্থান নিয়েছে প্রদেশের বহু মিউনিসিপালিটি। সরকারের একতরফা এই সিদ্ধান্তকে তারা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে দাবি করছে।

প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড চলতি মাসেই একটি আইন উত্থাপন করতে যাচ্ছেন, যার মাধ্যমে পুরো প্রদেশজুড়ে স্বয়ংক্রিয় স্পিড ক্যামেরা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ফোর্ডের অভিযোগ স্পিড ক্যামেরা মোটেই কার্যকর নয় এবং এগুলো মিউনিসিপালিটিগুলোর অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

- Advertisement -

কিন্তু প্রদেশের বিভিন্ন শহর ও মিউনিসিপালিটি এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্পিড ক্যামেরা গতি কমাতে স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন এবং টরন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাত্তও সেই দাবিকে সমর্থন করে।

প্রিমিয়ার ফোর্ড এবং পরিবহনমন্ত্রী প্রাবমিত সরকারিয়াকে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে ২০টিরও বেশি মিউনিসিপালিটি জানিয়েছে – স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে প্রাপ্ত জরিমানার অর্থ সরাসরি সড়ক নিরাপত্তায় ব্যয় করা হয়। স্কুল জোন, কমিউনিটি এরিয়া ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই ক্যামেরা দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলে গতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল ব্যয় বাড়বে, যা বহন করা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়।

মিউনিসিপালিটিগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে “প্রদেশ যদি স্পিড ক্যামেরা নিষিদ্ধ করতেই চায়, তাহলে গতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষতিপূরণ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যয় পুরোপুরি প্রদেশকেই বহন করতে হবে।”

মিউনিসিপালিটিগুলোর মতে, স্পিড ক্যামেরা শুধু আয়ের উৎস নয়; বরং সবচেয়ে খরচ-সাশ্রয়ী ও প্রমাণ-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে, ক্যামেরা নিষিদ্ধ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে, পুলিশি নজরদারির ওপর চাপ বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ কারণে তারা পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয় বরং ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামঞ্জস্য আনার প্রস্তাব দিয়েছে যেমন ক্যামেরার অবস্থান পর্যালোচনা, জরিমানার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।

প্রতিবাদ সত্ত্বেও ফোর্ড এখনো তার অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি দাবি করছেন, স্পিড ক্যামেরা মিউনিসিপালিটিগুলোর “অর্থ উপার্জনের সহজ উপায়”, যা চালকদের প্রকৃত নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান দেয় না।

আগামী সপ্তাহগুলোতে আইনসভায় বিল উত্থাপিত হলে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারের এই বিরোধ বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles