
টরন্টো শহরের প্রশাসন ইতিমধ্যেই ২০২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। শহরের আর্থিক কাঠামো, ব্যয়ের অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য খরচ কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও জনপরামর্শ এখন চলমান। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে জনগণের মতামত ও পরামর্শকে এই প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
বাজেট কমিটির চেয়ার কাউন্সিলর শেলি ক্যারল চলতি মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাজেট পরামর্শ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তাঁর মতে, এই পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টরন্টোবাসী সরাসরি জানতে পারবেন শহর কোন খাতে ব্যয় বাড়াতে চায়, কোথায় সাশ্রয় করা সম্ভব, এবং সামগ্রিকভাবে কীভাবে সিটির অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করা যায়।
১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বাজেট পরামর্শ সভাগুলোতে টরন্টোর বাসিন্দারা সরাসরি উপস্থিত থেকে বা অনলাইনের মাধ্যমে অংশ নিতে পারছেন। এই সভাগুলো নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলবে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।
শুধু সভাই নয়, নাগরিকদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একটি অনলাইন সমীক্ষাও চালু করা হয়েছে, যেখানে তারা তাঁদের মতামত, অগ্রাধিকার ও প্রস্তাব দিতে পারেন। সমীক্ষায় বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে বাসিন্দারা কোন খাতে বেশি বিনিয়োগ চান (যেমন, গণপরিবহন, আবাসন, নিরাপত্তা বা সামাজিক সেবা), এবং কোথায় ব্যয় কমানো যেতে পারে।
পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী জানুয়ারিতে বাজেট কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে সংগৃহীত জনমত, পরামর্শ এবং প্রাথমিক আর্থিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হবে। এর পরপরই অনুষ্ঠিত হবে পাবলিক প্রেজেন্টেশন সেশন, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা বাজেট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। এসব বৈঠক সিটি কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যাতে আরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
সবশেষ ধাপে, টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ ফেব্রুয়ারিতে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। এই বাজেট ১০ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সিটি কাউন্সিলের বিশেষ সভায় বিবেচনা করা হবে। সেখানে কাউন্সিলররা বিভিন্ন সংশোধনী, প্রস্তাব ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করবেন, এরপর গৃহীত হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
টরন্টোর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, গণপরিবহন সংকট এবং অবকাঠামোগত চাপের মধ্যে শহরের বাজেট একটি জটিল ভারসাম্যের বিষয়। প্রশাসন বলছে, তারা এমন একটি বাজেট প্রণয়নে কাজ করছে যা একদিকে নাগরিকদের প্রয়োজন মেটাবে, অন্যদিকে সিটির আর্থিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরের বাজেট পরামর্শ প্রক্রিয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই নিশ্চিত করবে যে ২০২৬ সালের টরন্টো বাজেট হবে “জনগণের বাজেট” একটি পরিকল্পনা যা শহরকে আরও টেকসই, সমতা-ভিত্তিক ও বসবাসযোগ্য করে তুলবে।

