কানাডার পণ্যে আরও ১০% শুল্ক আরোপ করতে চান ট্রাম্প

কানাডার পণ্যে আরও ১০% শুল্ক আরোপ করতে চান ট্রাম্প - the Bengali Times
বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঙ্ক

উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ফের চরমে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছেন তার প্রশাসন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এসেছে অন্টারিও প্রদেশে প্রচারিত এক বিতর্কিত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে, যেখানে মার্কিন শুল্ক নীতির সমালোচনা করা হয়েছে এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের একটি উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞাপন ট্রাম্পকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানা গেছে।

- Advertisement -

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সম্প্রতি একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করেন, যেখানে বলা হয় মার্কিন শুল্ক নীতি উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। বিজ্ঞাপনটিতে রিগ্যানের বিখ্যাত উক্তি “শুল্ক হলো ভোক্তাদের ওপর আরোপিত কর” ব্যবহার করা হয়।

ফোর্ড জানিয়েছেন, তিনি বিজ্ঞাপনটি এই সপ্তাহের পর সরিয়ে ফেলতে পারেন, তবে শুক্রবার রাতে ওয়ার্ল্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালে বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হয়, যা ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র করে তোলে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন – “এই বিজ্ঞাপনটি সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে ফেলা উচিত ছিল। অথচ ওরা ওয়ার্ল্ড সিরিজ চলাকালেই এটি প্রচার করেছে জেনে-শুনেই তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। তথ্যের গুরুতর বিকৃতি এবং শত্রুতামূলক আচরণের কারণে আমি কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছি।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “প্রয়োজনে কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।”

যদিও ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কোন আইনি ধারা বা কর্তৃত্বের অধীনে এটি কার্যকর করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সময়সূচি জানানো হয়নি এই শুল্ক কবে কার্যকর হবে বা সব কানাডিয়ান পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লাব্লাঙ্ক শনিবার রাতে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য কানাডা প্রস্তুত।”

তবে তিনি ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকি কিংবা বিজ্ঞাপন বিতর্ক নিয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, কানাডার প্রাক্তন কূটনীতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ঘটনা উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (USMCA)-এর ভবিষ্যতের ওপর নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল ও তাৎক্ষণিক আবেগনির্ভর।

ওয়াশিংটনের নর্থ আমেরিকান ট্রেড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ এলিজাবেথ হাওয়ার্ড বলেন, “এই অতিরিক্ত ১০% শুল্ক মূলত বাণিজ্য নীতির চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ধারাবাহিক অংশ, তবে এর বাস্তব প্রভাব পড়বে উভয় দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং কৃষিপণ্যের দামে উভয় দেশেই মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো কানাডা-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে এক নাজুক ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

অন্টারিওর একটি বিজ্ঞাপন থেকে শুরু হলেও, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে। এখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি থাকবে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা বাস্তবায়নে যায়, আর কানাডা কৌশলগতভাবে কীভাবে এর জবাব দেয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles