অটিজম চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতা বাড়ছেই

অটিজম চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতা বাড়ছেই - the Bengali Times
অন্টারিও প্রদেশে অটিজম চিকিৎসা ও সহায়তা সেবার সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে

অন্টারিও প্রদেশে অটিজম চিকিৎসা ও সহায়তা সেবার সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি অটিস্টিক শিশু ও তরুণদের জন্য প্রতিশ্রুত সেবা ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। বরং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

অন্টারিও অটিজম কোয়ালিশনের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভয়াবহ বাস্তবতা বর্তমানে প্রদেশটিতে ৬০ হাজারেরও বেশি শিশু ও তরুণ মূল ক্লিনিক্যাল সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংগঠনটির ভাষায়, “ফোর্ড সরকারের অবহেলায়” এই বিপুল সংখ্যক শিশু কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

- Advertisement -

অন্টারিও এনডিপির অটিজম বিষয়ক সমালোচক অ্যালেক্সা গিলমোর বলেন, “আমাদের প্রদেশে শত শত কোটি ডলার খরচ করে টানেল প্রকল্প চালানোর মতো সম্পদ রয়েছে। কিন্তু যখন বিপন্ন শিশু ও তাদের পরিবার আমাদের কাছে এসে বলে যে তারা সাহায্য চায়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে কেবল একটি উত্তরই আসে ‘অপেক্ষা করুন।’”

তিনি আরও বলেন, কনজার্ভেটিভ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় অটিজম প্রোগ্রামের সংস্কার ও দ্রুত সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুর সংখ্যা এখন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে একজন শিশু বা তরুণকে প্রোগ্রামের মূল সেবা পেতে গড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষা বাবা-মায়েদের জীবনে নিয়ে এসেছে অমানবিক চাপ। অনেক পরিবারকে এখন “অসম্ভব সিদ্ধান্ত” নিতে হচ্ছে বাড়ি ভাড়া দেবেন, নাকি সন্তানের থেরাপির খরচ মেটাবেন।

অন্টারিও অটিজম কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালিনা ক্যামেরন বলেন, “অনেক পরিবার এমন অবস্থায় পড়েছে যেখানে তাদের সামনে কেবল দুটি বিকল্প ছাদের নিচে থাকা নাকি সন্তানের চিকিৎসা। অনেক বাবা-মা ব্যক্তিগত ঋণ নিচ্ছেন, কেউ কেউ চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুলগুলোতেও পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় শিক্ষকদেরও পড়তে হচ্ছে প্রচণ্ড চাপে।”

অন্টারিও সরকারের শিশু, সম্প্রদায় ও সামাজিক সেবা মন্ত্রী মাইকেল পারসা দাবি করেছেন যে সরকার ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তিনি বলেন, “আমরা অটিজম প্রোগ্রামকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য কাজ করছি। পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।”

তবে পরিবার ও কর্মীরা বলছেন, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাদের মতে, প্রদেশে বর্তমানে যে এক-চতুর্থাংশেরও কম শিশু প্রতিশ্রুত সেবা পাচ্ছে, তা প্রমাণ করে যে অগ্রগতি নয়, বরং অবনতি ঘটছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, অন্টারিও অটিজম কোয়ালিশন সরকারকে অবিলম্বে জরুরি তহবিল বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস, প্রতিটি বছর এই অপেক্ষা একটি শিশুর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেড়ে নিচ্ছে। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সহায়তা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি তাদের মৌলিক অধিকার।”

অন্টারিও সরকারের অটিজম প্রোগ্রাম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৯ সালে সরকার যখন প্রোগ্রাম কাঠামো পরিবর্তন করে পরিবারগুলোর নিজস্ব অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে, তখন থেকেই এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমান নীতিতে সেবা পাওয়ার মানদণ্ড জটিল এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নীতিনির্ধারকরা যেখানে আর্থিক ভারসাম্যের কথা বলছেন, সেখানে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে হাজারো পরিবার এখন সন্তানদের চিকিৎসার আশায় সময়ের সঙ্গে লড়ছে।

অন্টারিওর সামাজিক নীতিনির্ধারণে এই সংকট এখন একটি মানবিক প্রশ্নে রূপ নিয়েছে অটিজম আক্রান্ত শিশুরা কি তাদের প্রাপ্য যত্ন ও সুযোগ পাবে, নাকি অপেক্ষার প্রহরই হবে তাদের নিয়তি?

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles