কুইবেককে বাজেট কর্তন থেকে সরে আসার আহবান জুনিয়র কলেজগুলোর

কুইবেককে বাজেট কর্তন থেকে সরে আসার আহবান জুনিয়র কলেজগুলোর - the Bengali Times
কুইবেকের জুনিয়র কলেজগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন প্রাদেশিক সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে সরকার যেন কলেজ পর্যায়ে ঘোষিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে

কুইবেকের জুনিয়র কলেজগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন প্রাদেশিক সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে সরকার যেন কলেজ পর্যায়ে ঘোষিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। ফেডারেশনের মতে, নতুন শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় এখনই এমন আর্থিক সংকোচন কার্যকর করা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।

প্রদেশের ৪৮টি জুনিয়র কলেজে চলতি ফল সেমিস্টারে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, যা এক অভূতপূর্ব সংখ্যা বলে ফেডারেশন জানিয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধিকে ফেডারেশন “শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক খবর” হিসেবে দেখলেও, একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছে যে এই পরিস্থিতিতে বাজেট কর্তন মানে কলেজগুলোর উপর “অতিরিক্ত চাপ” সৃষ্টি করা।

- Advertisement -

সরকারের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র কলেজগুলোকে সম্মিলিতভাবে ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেট সাশ্রয় করতে বলা হয়েছে। এর ফলে, বহু কলেজে নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে বিশেষ করে যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেন না, যেমন প্রশাসনিক ও সহায়ক পদে নিযুক্ত কর্মচারী।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যত সমগ্র কলেজ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করছে। কারণ, অপ্রশাসনিক কর্মীরাও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। অনেক কলেজেই ইতিমধ্যে অবকাঠামো সেকেলে হয়ে পড়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। এই অবস্থায় তহবিল হ্রাস তাদের কার্যক্রমে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সরকার সম্প্রতি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুল সিস্টেম থেকে ৫৭ কোটি ডলার বাজেট কর্তনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। কিন্তু জুনিয়র কলেজগুলোর ক্ষেত্রে সেই নীতি প্রযোজ্য করা হয়নি বরং সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কলেজ পর্যায়ের বাজেট হ্রাস অব্যাহত থাকবে।

ফেডারেশন অব সেজেপস (Fédération des cégeps) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই মুহূর্তে যখন আমাদের শ্রেণিকক্ষে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত, তখন অর্থনৈতিক চাপ আরোপ করা শিক্ষার মানকে বিপন্ন করবে। আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই, তারা যেন শিক্ষাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখে, ব্যয় হিসেবে নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, কুইবেকের এই পরিস্থিতি কানাডার সামগ্রিক শিক্ষা নীতির দিক থেকেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। যখন উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং সমাজে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান, তখন এই বাজেট সংকোচন শিক্ষার গুণগত মানে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

তাছাড়া, কলেজগুলোর প্রশাসন ইতিমধ্যেই কর্মী সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থার অভাবের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে ফেডারেশনের আশঙ্কা বাজেট কর্তন চালু থাকলে শিক্ষার্থীদের সেবা, শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ এবং কলেজগুলোর মৌলিক অবকাঠামো সবকিছুই প্রভাবিত হবে।

কুইবেক সরকারের সিদ্ধান্ত এখন জনমত ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফেডারেশন আশাবাদী যে সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করবে। তবে আপাতত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পর্যায়ে বাজেট পুনর্বহাল হলেও জুনিয়র কলেজগুলোকে নিজেদের মতো করেই আর্থিক সংকট সামলাতে হবে।

চূড়ান্তভাবে, এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয় এটি শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles