
টরন্টোতে আবারও গণপরিবহনে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে দুটি আলাদা ঘটনায় একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি হেনস্থা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। টরন্টো পুলিশ বর্তমানে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজছে, যিনি ব্যস্ততম সময়ে নারী যাত্রীদের লক্ষ্য করে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কিল স্ট্রিট ও ফিঞ্চ এভিনিউ ওয়েস্ট এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। এক নারী যাত্রীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি অশোভনভাবে এগিয়ে আসেন। আতঙ্কিত নারী দ্রুত সরে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই একই ব্যক্তিকে পাওয়া যায় পাওনিয়ার ভিলেজ সাবওয়ে স্টেশনে। সেখানে তিনি আবারও একই নারীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল আচরণ করেন। ভুক্তভোগী শেষ পর্যন্ত টিটিসি কর্মীদের সহায়তা চাইলে সন্দেহভাজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অল্প সময় পর, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে জেন স্ট্রিট ও ফিঞ্চ এভিনিউ ওয়েস্টের একটি বাস স্টপে ফের দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। এবারও লক্ষ্য হন আরেকজন নারী যাত্রী। বাসে ওঠার আগেই তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন এবং বাস চলার পুরো সময়, বিশেষ করে জেন স্ট্রিট ও ফিঞ্চ মলের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি চিৎকার করে অশালীন মন্তব্য চালিয়ে যান। এতে শুধু ভুক্তভোগী নন, আশেপাশের যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর এবং উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ঘটনার সময় তার পরনে ছিল একটি টি-শার্ট, নেভি ব্লু রঙের প্যান্ট এবং মাথায় একটি বেসবল ক্যাপ। সঙ্গে ছিল কালো ব্যাকপ্যাক এবং পায়ে ছিল সবুজ, সাদা ও হলুদ রঙের এয়ার জর্ডান ব্র্যান্ডের জুতা। যদিও এখনো তার নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশের ধারণা, তিনি পূর্বেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন।
টরন্টো পুলিশের যৌন হেনস্থা বিষয়ক ইউনিট জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক কারণে অভিযোগ করতে চান না। এতে অপরাধীরা সহজেই বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই কেউ যদি এই ব্যক্তিকে চিনে থাকেন বা অনুরূপ ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন, তবে দ্রুত পুলিশ বা ক্রাইম স্টপার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতাদের নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টরন্টোর গণপরিবহনে যৌন হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে শুধু টিটিসি বাস ও সাবওয়ে সিস্টেমেই যৌন হয়রানি ও হেনস্থার অভিযোগের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। বছরে গড়ে ৬০০টির বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, কারণ অনেক ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্টই করা হয় না।
নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিটিসি সম্প্রতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাস ও সাবওয়ে স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নারীদের জন্য “রিকুয়েস্ট স্টপ প্রোগ্রাম” চালু, যার মাধ্যমে রাতের বেলা তারা মাঝপথে নিরাপদ জায়গায় নেমে যেতে পারেন। তবে সমাজকর্মীরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গণপরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিল, টরন্টোর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন হাজারো নারী টিটিসির বাস ও সাবওয়ে ব্যবহার করেন। কিন্তু যখন তাদের যাত্রা ভয়ের হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও ইঙ্গিত দেয়। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, আর সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

