মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা দেখছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা দেখছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি - the Bengali Times
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে দি হেগে অবস্থানকালে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজা ও পশ্চিম তীরের ইস্যু নিয়ে সমন্বিত রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এ অঞ্চলে প্রকৃত স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, “এখন সময় এসেছে গাজা ও পশ্চিম তীরের ইস্যু নিয়ে টেকসই আলোচনায় বসার। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু না করলে এই অঞ্চলে শান্তি আনা সম্ভব নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মূল কারণ। তাই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামোই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে।

- Advertisement -

সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ, বিশেষত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় লক্ষ্যভেদী হামলার প্রসঙ্গ টেনে কার্নি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও সক্ষমতাকে আবারও স্পষ্ট করেছে। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগান, তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, হোয়াইট হাউস এতদিন প্রকাশ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করেনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে নীতিগত পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা শুরু করার আহ্বান জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী। হামাসের হাতে আটক সব জিম্মিদের মুক্তি ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করাকে তিনি ‘প্রকৃত শান্তির পূর্বশর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কার্নি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত বন্দিদের মুক্তি না হচ্ছে এবং বেসামরিকদের জন্য নিরাপদ করিডোর খোলা না হচ্ছে, ততক্ষণ প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতির পরবর্তী কয়েক সপ্তাহই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয় এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলো আলোচনায় ফিরে আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি নতুন শান্তির রোডম্যাপ গড়ে উঠতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি হবে। সৌদি আরব ও কাতারও পুনর্গঠন তহবিলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মানবিক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, গাজায় হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ পুনঃস্থাপন এবং খাদ্য সহায়তা জোরদার করা সময়ের দাবি। কানাডা সরকারও জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রাখবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা অবকাঠামো পুনর্গঠনে অতিরিক্ত তহবিল ঘোষণা করেছে।

অটোয়ার সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কানাডা শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, কার্নির বক্তব্যকে কানাডার একটি সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কেবল গাজায় সহিংসতা কমানোর পথ তৈরি করেনি, বরং নতুন করে শান্তি আলোচনার দ্বারও উন্মুক্ত করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মতে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles