
নষ্ট সমাজকে আরো বেশী নষ্ট করার এমনিতেই হাজারো টুলস বের হয়েছে ডিজিটাল টেকনোলজির নামে, তার উপর কিছু লোক নানাভাবে সেগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করছে। লাজ লজ্জা শরম সবকিছু সমাজ থেকে চলে যাচ্ছে এবং সেগুলোর সাপোর্ট করার লোকেরও অভাব নাই। ঘাটের কুলি, ডাষ্টবিনের ময়লা, যাদের না আছে পড়াশোনা, না আছে জ্ঞান গরিমা, রাজনৈতিক দলগুলোর তথাকথিত ভুয়া ভোটের নেতাদেরকে অবৈধ টাকার রসদ যোগাতে পারলেই সেও হয়ে গেল একখান নেতা। টাকাগুলো যোগাতে সেই ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র, ড্রাগ, পতিতার দালালি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে যোগসাজশ করলো কিনা তার কোনটাই বাছ বিচার করা হয় না। টাকা সাপ্লাই দিলেই হলো, নেতার পাশের বড় চেয়ারটা তার জন্যে রিজার্ভ। আর ভাত ছিটালে যেমন কাউয়ার অভাব হয় না, তেমনি অভিনন্দন বার্তারও অভাব হয় না। রঙ বেরঙের পোষ্টার, হাইতনার বারান্দার মত হাজারো নেতা পাতি নেতার পোষ্টারে ছয়লাব হয়ে যায় দেশ। বিমান বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামন্চলের হাট ঘাট মাঠ ছেয়ে যায় সেই সব অভিনন্দন বার্তার পোষ্টারে। অমুক ভাইকে তমুক পদে দেখতে চাই, প্রচারে কালিয়াঘাট শাখার ৫৪নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক! এসব অভিনন্দনে তাদের কোনদিন হাহা হিহি দেখলাম না। সুবোধ জনগণ হয়ে দর্শকের আসন পূরণ করে এতদিন ধন্য হয়েছে। এখন আসছে হাহা হিহি করতে, একজন আমেরিকান বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অভিবাসী সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বা যে কোন দেশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে প্রমোশন পেয়েছে যা আসলে খুবই গর্বের কথা, অথচ সেই সংবাদে যারা অভিনন্দন জানাচ্ছে তাদের নিয়ে সমালোচনামূলক পোষ্ট দেয়া হয়েছে। মনে পড়ে আহমেদ ছফার একটা উক্তি “সৎ সাহস মানে অনেক দুরবর্তী সম্ভাবনা দেখতে পারার ক্ষমতা”! আরে ভাই যদি সৎ সাহস থাকে ভবিষ্যত সমাজটার অবয়বটা একটু কল্পনা করে দেখ। কেমন দানবিক সমাজ রেখে যাচ্ছ, একটু হলেও চিন্তা করে দেখ। থিংক বিয়োন্ড।
স্কারবোরো, কানাডা

