ইনাম ভাইকে নিয়ে কিছুকথা

ইনাম ভাইকে নিয়ে কিছুকথা - the Bengali Times
ইনাম ভাইকে নিয়ে কিছুকথা

বাঙলিদের দুর্বলতা বোঝা যায় বয়সকালে। ইনাম আল হক মোটেই তেমনটি নন। শাররীক,মানসিক চিন্তায় এক ভিন্ন বাঙালি মানুষ। একযুগ আমেরিকায় শিক্ষাবাস ও বিমান বাহিনীর ট্রেনিং এর একটি কারণ হতে পারে। ওনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে আধুনিক ফটোগ্রাফীর জনক আনোয়ার হোসেন,স্বনামধন্য শিল্পী কালীদাস কর্মকার ও বিশ্ব বিখ্যাত মডেল ডিজাইনার বিবি রাসেলের মত মানুষেরা। আনোয়ার ভাই যখনি প্যারিস থেকে ঢাকা আসতেন ইনাম ভাইয়ের বনানী ডিওআইচএস বাসায়  উঠতেন। ইনাম ভাই নিজেও একজন আন্তর্জাতিক ভাবে সুপরিচিত পাখি এবং প্রকৃতির ফটোগ্রাফার। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকায় ওনার একক ছবির প্রদর্শনীও হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আমাকেও বিশেষ অতিথি হিসেবে গলাবাজী করার সুযোগ দিয়ে ছিলেন তিনি। তবে ইনাম ভাইয়ের জীবনের বড় কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মনে পাখিপ্রেম,পাখি পরিচিতি পাখিদের জন্য মমত্ববোধ গড়ে তুলতে সাফল্য পাওয়া। এক সময় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে সায়বেরিয়া থেকে আসা পাখির ঝাককে পানি বিষ মিশিয়ে মেরেছে বাংলাদেশের মহান জনতা। একবার ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে দুই হাতে চারটি করে আটটি বিদেশী পাখি পা বেঁধে মাথা নিচে ঝুলিয়ে বিক্রী করছিলো একজন। ইনাম ভাই দেখে সহ্য করতে পারেননি। নেমে লোকটিকে ধরতে গেলে সে দৌড়ে পালাতে চাইলো। ইনাম ভাইয়ের সাথে কি দৌড়ে পার পাবে। তাকে ধরে নিজের গাড়িতে করে ধানমুন্ডি থানায় নিয়ে গিয়ে ছিলেন। থানায় বল্লো-স্যার,পাখি ধরে পেটের দায়ে বিক্রী করাতো কোনো অপরাধ নয় কোন আইনে আঁটকাবো! ইনাম ভাই লোকটাকে নিয়ে ক্যান্টারমেন্ট থানায় গিয়ে ভয় দেখিয়ে কানধরে উঠবোস করিয়ে ছেড়ে ছিলেন। পরদিন সকালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে আটটি পাখি ছেড়ে দিয়ে এসে ছিলেন। বাংলা দৈনিক দুই চারটায় নিউজ ও করিয়ে ছিলেন যে বিদেশী পাখি বিক্রতারকে ধরে তিন মাসের জেল। এখন থেকে এই শাস্তী বলবত থাকবে। এরপর থেকে বেশ কিছুদিন সত্যি এলিফ্যান্ট রোড ফুটপাথে  কিংবা নিউমার্কেটে দেখা যেতোনা বিদেশী পাখি বিক্রেতাদের। পাহাড় বিমুখ বাংলাদেশী তরুণ সমাজের মনে গেঁথে দিয়ে ছিলেন তিনি পাহাড়ের প্রতি টান-ভালোবাসা। পাহাড়ে-পাহাড়ে ট্রাকিং হয়ে উঠেছিলো প্রিয় হবি। বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে ট্রাকিং করে পাহাড়া চূড়ায় পৌঁছে উল্লাসে আকাশের দিকে মুখ উঁচিয়ে তীব্র চিৎকার দেয়া আমাদের ইনাম আল হকই দেখিয়েছেন,শিখিয়েছেন। প্রতি মাসের প্রথম ও শেষ সপ্তায় তার বাসায় জড়ো হতেন বিশ-পঁচিশ নানা বয়সের সাহসী টগবগে মানুষ। প্রথমে হতো বার্ড ওয়াচারদের মজমা। কোথায় কোন জঙ্গলে হাওড়ে কিংবা বাড়ির পাশে কে কিকি পাখি দেখেছে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা ছবি তুল্লে স্লাইড প্রদর্শন। শেষ সপ্তায় জমজমাট পাহাড় নিয়ে কে কোথায় ট্রাকিং এ গেলো তার ছবি প্রদর্শন ও তথ্য শেয়ার করতো সবাই। এই দলেরই মুহিত দুইবার হিমালয় চূড়ায় বাংলাদেশ পতাকা পুতে দিয়ে এসেছেন। এদেরই একজন বিয়ের পর স্ত্রী কোলে ছোট্ট কয়েক মাসের সন্তানকে রেখে হিমালয় বিজয়ে গিয়ে তুষার ঝড়ে কোথায় যে হারিয়ে গেলেন যার হদিশ এখনো মেলেনি। তার গোটা জীবন কর্মের জন্যে বাংলা একাডেমি তাকে পুরস্কৃত করেছে ,আমরা আশা করবো তার মত যোগ্য মানুষকে একুশে পদক দেয়া হোক। ইনাম ভাই তার বাড়ির দেয়ালে খ্যাতিমান শিল্পী কালীদাস কর্মকারের পাশে আমার আঁকা ছবিও ঝুলিয়ে রেখেছেন এ তার মহানুভবতা।

 

- Advertisement -

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles