
ছোটবেলা থেকেই ছড়া-কবিতা পড়তে ভালোবাসতাম। সেই সময়েই পড়েছিলাম নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিখ্যাত কবিতা—“ঝিকঝিক ঝিকঝিক চলে রেলগাড়ি।”
স্বাধীনতার পর গাইবান্ধা শহরে যেতাম যখন, তখন সত্যি চোখে দেখতাম সেই কু ঝিকঝিক রেলগাড়ি। রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে কয়লার ইঞ্জিনের সেই রেলগাড়ি দেখাটাই ছিল এক রোমাঞ্চকর বিস্ময়।
কত বছর পেরিয়ে গেছে! কয়লার ইঞ্জিন তো এখন শুধুই ইতিহাস। তারপর এসেছে ডিজেল ইঞ্জিন, আর এখন তো চলছে বুলেট ট্রেনের যুগ। বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালুর।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ঘুরতে গিয়েছিলাম অন্টারিওর পর্যটন শহর কিংস্টোনে। সিটি হলের সামনে বিশাল এক কয়লার ইঞ্জিন দেখে মুহূর্তেই ফিরে গেলাম শৈশবে। তবে মনে হলো, আমার দেখা শৈশবের সেই কয়লার ইঞ্জিন এতটা বড় ছিল না।
জানা গেল, ১৯১৩ সালে কানাডা প্যাসিফিক রেলওয়ে কোম্পানির জন্য “১০৯৫” সিরিজের দশ-চাকার প্রথম ইঞ্জিনটি তৈরি করেছিল কিংস্টোন লোকোমোটিভ কোম্পানি। পরবর্তীতে তারা মোট ২৫টি ইঞ্জিন তৈরি করে, যেগুলো ১৯৬১ সাল পর্যন্ত সচল ছিল।
১৯৬৭ সালে এই “১০৯৫” নম্বর ইঞ্জিনটি উপহার হিসেবে প্রদান করে কানাডা প্যাসিফিক রেলওয়ে কোম্পানি, কিংস্টোন সিটির তৎকালীন মেয়রকে। এরপর এটি স্থাপন করা হয় অন্টারিও লেকের মোহনায়, সিটি হলের সামনে কনফেডারেশন পার্কে। ২০০৯ সালে সংস্কারের পর ইঞ্জিনটি নতুন করে প্রদর্শনের জন্য সাজানো হয়। এর মাধ্যমে কানাডার প্রথম প্রধানমন্ত্রী স্যার জন এ. ম্যাকডোনাল্ডের অবদানের স্মরণ করা হয়।
আপনারাও যদি সময় পান, ঘুরে আসতে পারেন কিংস্টোন সিটি হলে। পরিচিত হতে পারেন কানাডার এক গৌরবময় রেল-ইতিহাসের সঙ্গে। আর সাথে উপভোগ করতে ভুলবেন না লেক অন্টারিও পার্কের নয়নাভিরাম নীল জলের সৌন্দর্য!

