
ভবিষ্যতে আওয়ামী রোষানল থেকে নিজেকে ও গ্রামীণ গ্রুপ অব কোম্পানিজকে রক্ষা করতে হলে প্রফেসর ড. ইউনূসের সামনে বিএনপির ওপর ভরসা করা ছাড়া বাস্তবিক কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
তিনি ইতোমধ্যে বুঝে গেছেন, এনসিপি, জামায়াত বা হেফাজতসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো তাঁকে কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে না। বিশেষ করে, এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এখনও অস্পষ্ট, এবং সংগঠন হিসেবে নিজেদের গোছাতে তাদের আরও সময় লাগবে। এর মধ্যে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই পাল্টে যাবে।
জামায়াতের চরিত্রও অপরিবর্তিত। দলের আমিরের বক্তব্য বারবার পরিবর্তিত হয়, আর ছোটখাটো নেতারা এমনসব দাবি করছেন, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে—যেমন, “জামায়াতকে গালি দেওয়া মানেই ইসলামকে গালি দেওয়া” বা “আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা হয়।” এসব কথা সাধারণ মানুষ এখন আর আগের মতো গ্রহণ করছে না। তারা এখন অনেক সচেতন।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও তাদের মিত্র মধ্যপন্থী দলগুলোই একমাত্র সম্ভাব্য গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে মাঠে আছে। বিএনপির অতীত শাসনে দুর্নীতি ও অনিয়ম ছিল, কিন্তু তারপরও বর্তমানের মত চাঁদাবাজি ও দলীয় দুঃশাসনের তুলনায় বিএনপিকে ‘মন্দের ভালো’ বললে খুব ভুল হবে না। গত পনের বছরে দলটি অনেক কিছু শিখেছে, বোঝা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিএনপির চেয়ে আর কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে তেমন আগ্রহী মনে হয় না। অনেকেই ড. ইউনূসকে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে দেখতে চান—এটি দোষের কিছু নয়। তবে সেটা হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়—নির্বাচনের মাধ্যমে। অথচ তিনি তো নির্বাচনে অংশ নিতে চান না। বরং তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচনের আয়োজন করে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চান।
আরেকটি বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি খুব অল্প সময়ে সমূলে দূর করা সম্ভব নয়। ড. ইউনূস নিজেও বলেছেন, বাংলাদেশ একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ’, এবং গত দশ মাসে দেশ চালাতে গিয়ে তিনি এই বাস্তবতা খুব ভালোভাবে টের পেয়েছেন।
তাঁর একার পক্ষে দেশ বদলানো সম্ভব নয়। পরিবর্তন আনতে হলে সব রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। ড. ইউনূস হয়ত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবেন, কিন্তু ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। পরবর্তী সরকারগুলোকে সেই ধারা বজায় রাখতে হবে বা নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
সময় লাগবে, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ যথেষ্ট সচেতন। তারা দেশটাকে ঠিক পথেই রাখবে—এই বিশ্বাস আছে।
টরন্টো, কানাডা

