
গুগলে “কানাডায় বর্ণবাদী দল” লিখে সার্চ দিলে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম উঠে আসে, যারা কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, করোনার টিকা বা লকডাউন নিয়েও চরম আপত্তিকর অবস্থান নিয়েছিল। যদিও এ দলটি গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসন পায়নি, তবে তাদের পাওয়া ভোটের পরিমাণ কিন্তু ভেবে দেখার মতো।
২০১৯ সালে তারা ৩১৯ জন প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ২,৯৪,০৯৮ ভোট, যা মোট ভোটের ১.৬%।
২০২১ সালে ৩১২ জন প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৮,৪০,৯৯০ ভোট—মোট ভোটের ৪.৯%।
আর ২০২৫ সালে, প্রার্থী সংখ্যা কমিয়ে ২৪৭ জন করলেও পেয়েছে মাত্র ১,৪১,২১০ ভোট, যা মোট ভোটের ০.৭%।
কল্পনা করুন, যদি বাংলাদেশে কিছু লোক যেভাবে সংখ্যানুপাতে (PR) আসন দাবি করেন, সে পদ্ধতি কানাডায় থাকতো—তাহলে ২০২১ সালের নির্বাচনে এই বর্ণবাদী দলটি পার্লামেন্টে ১৭টি আসন পেয়ে যেত। ২০১৯ সালে পেত ৫টি। ভাবা যায়?
ভাগ্যিস, কানাডায় এখনো PR পদ্ধতি নেই। না থাকলে, এই ঘৃণাবাদীরা সংসদে বসে কোন ভাষায় কথা বলতো, তা সহজেই অনুমেয়। এই উদাহরণ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: ঘৃণার রাজনীতি রুখতে হলে PR পদ্ধতির মতো সংখ্যায় ভরসা করে আসন পাওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখতে হবে।
গত কয়েক বছরে শুধু কানাডা নয়—আমেরিকা, ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ বহু দেশেই ধর্ম, গায়ের রঙ, মতাদর্শের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। সমাজে ও রাজনীতিতে ঘৃণার চর্চা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে, ঘৃণার রাজনীতি যারা চর্চা করে—তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। দলবাজির নয়, ন্যায়ের লড়াই করা।
তাই, শুধু বাংলাদেশ নয়, কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই PR পদ্ধতি থাকা উচিত নয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন ও সংস্কার করা উচিত—কিন্তু ‘সংখ্যা নির্ভর আসন’ দেওয়ার পথ খুলে দিলে, কিছু ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দোকানদার দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে। তাদের কথিত “ভোটের সংখ্যা” ব্যবহার করে তারা সংসদে গিয়ে স্বাধীনতার মূল্যবোধে আঘাত করবে।
কানাডার সেই দলের জনপ্রিয়তা ২০২৫ সালে এসে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৭%—এটি সম্ভব হয়েছে শুধুই ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক চর্চা, নাগরিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে।
আসুন, গলার ফাঁসির মতো PR নয়, চাই গণতন্ত্রের যথাযথ সংস্কার।

