
সপ্তাহে দুই-তিন দিন ইস্টইয়র্কের ড্যানফোর্থ এভিনিউতে অবস্থিত একটি এনজিওতে সশরীরে অফিস করি। এনজিওটি আমাদেরই প্রতিষ্ঠিত। এতদিন কাজের পরিমাণ কম থাকায় নিয়মিত যাওয়া হতো না। এখন কাজের ভলিউম বেড়েছে। অনেকেই সেবা নিতে সরাসরি অফিসে আসছেন। সরকারি ও বেসরকারি ফান্ডিং কিছুটা বেড়েছে—সে কারণে লক্ষ্যমাত্রা, জবাবদিহিতা ও চাপ—সবই বেড়েছে।
পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকি ব্রাম্পটনে—টরন্টো থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। অফিসে যেতে বেশিরভাগ সময় হাইওয়ে ৪০১ ব্যবহার করি। কখনও কখনও গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে ধরে যাই—যেটি টরন্টোর ডাউনটাউনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে। গুগলের GPS মহোদয় যেদিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন, আমি সাধারণত সেদিকেই যাই। তবে বেশিরভাগ সময় ৪০১-ই বেছে নিতে বলেন।
টরন্টোর হাইওয়ে ৪০১ প্রায় সারাক্ষণই জ্যামে ভরা থাকে। তাই সকালে ব্রাম্পটন থেকে ইস্টইয়র্ক পৌঁছাতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
এই সময়টাকে আমি বৃথা যেতে দিই না। ফোন করার প্রয়োজন থাকলে ফোন করি। এরপর CBC রেডিও শুনে কানাডা ও বিশ্বের খবর জেনে নিই। তারপর FM রেডিওতে একটু হালকা হিট মিউজিক, ইউটিউবে বাংলাদেশের টিভি নিউজ আর টকশো, শেষে বাংলা গান—সব মিলিয়ে পথ যেন গল্প হয়ে ওঠে। কখন যে দু’ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, টেরই পাই না।
মানুষ জন্মগতভাবে সৃষ্টিশীল ও অভিযোজন-ক্ষম। সে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। অন্যান্য প্রাণীরা মানুষের মতো এত দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারে না বলেই তারা হারিয়ে যাচ্ছে।
মানুষের পরেই যে প্রাণী অভিযোজনের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী, সে হলো তেলাপোকা। তারাও পরিবেশের সঙ্গে সহজেই খাপ খায়। তাই তো শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, “পৃথিবীতে অতিকায় হস্তি লুপ্ত হয়েছে, কিন্তু তেলাপোকাটি টিকে আছে।”
তবে তাই বলে—মানুষ কি তেলাপোকা?
টরন্টো, কানাডা

