হ্যাপি কানাডা ডে

হ্যাপি কানাডা ডে - the Bengali Times
আসলে কতটুকু হ্যাপি বলতে পারছি না কারণ মিডিয়া থেকে জানতে পারলাম মার্ক কার্নি সরকার আবারো ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করেছে

আসলে কতটুকু হ্যাপি বলতে পারছি না কারণ মিডিয়া থেকে জানতে পারলাম  মার্ক কার্নি সরকার আবারো ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করেছে। ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স  বলে একটা ব্যাপার ছিল যেটা আমেরিকার টেক কোম্পানিগুলো থেকে কানাডার আদায় করার কথা ছিল কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ব্যাপারটিতে বেঁকে বসে। বলেছে এটা বাতিল না করলে কানাডা আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হবে না।  অগত্যা কি আর করা,  মার্ক কার্নি অনুগত বাধ্যগত ছাত্রের মত ট্রাম্পের আবদার মেনে সেই ট্যাক্স বাতিল করে দিয়েছেন।

আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প নরেন্দ্র মোদিরা হচ্ছে তাদের দেশের স্বার্থ দেখবে, এটাই স্বাভাবিক । টুইটারে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখেছি, কেন এই দুজন বাংলাদেশের বিষয়গুলো নিয়ে মুখ খুলছে না। আসলে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের দুজনের এখনই কোন মাথা ব্যাথা নেই মনে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মামদানিকে নিয়ে, মামদানির উত্থান ডোনাল্ড ট্রাম্প কে বড়ই বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। আর নরেন্দ্র মোদি ব্যস্ত কাশ্মীর সিকিউর করা নিয়ে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধের রেশ এখনো রয়ে গেছে। এইতো গত কয়েকদিন আগে কাশ্মীরের পাহাড়ে নতুন রেললাইন উদ্বোধন করেছে। এই রেল লাইন দিয়ে কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর জন্য মালামাল পরিবহন অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই বলছি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোদির  উপর এই মুহূর্তে ভরসা করা যায় না। এই যে বাংলাদেশে এত ভায়োলেন্ট অবস্থা,  তাতে আমেরিকা ইন্ডিয়া কেউ গরজ নিয়ে কিছু বলছে না বরং আজকে সংবাদপত্রে দেখলাম আমেরিকার মার্কো  রুবিও প্রফেসর ইউনুসের সাথে টেলিফোন আলাপে দু’দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। আসলে দু’দেশের স্বার্থ তো অভিন্ন নয়,  আমেরিকার স্বার্থ নিয়েই কথা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়েল এস্টেট ব্যবসার লোক,  গ্রিনল্যান্ড, কানাডার দিকে চোখ দিয়েছে,  বাংলাদেশের দিকে যে দেয়নি তার কোন নিশ্চয়তা নেই। মার্ক কারনি তো বলে দিয়েছিল সব রিয়েল এস্টেট  কেনাবেচার জন্য নয়,  যেমন হোয়াইট হাউস অথবা ক্যাপিটল হিল। আমাদের দেশের কর্তা ব্যক্তিরা যদি সেভাবে পুশ ব্যাক করে বলতে পারতো,  বাংলাদেশের সমুদ্র বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কেনাবেচার জন্য নয়, তাহলে দেশের মানুষের এত মরণ দশা  হতো না। এই যে রাঘববোয়াল দেশগুলো  বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট এর জন্য ঘাপটি মেরে আছে ,  আর সেই কাজে খুঁজে বের করছে কারা সবচেয়ে সহায়ক শক্তি, সেই সমীকরণ থেকেই তারা কখনো চোখ রাঙায়,  আবার কখনো চোখ ফিরিয়ে রাখে। এই সময়টা চলছে,  আমেরিকা ইন্ডিয়ার চোখ ফিরিয়ে রাখার সময়।

- Advertisement -

আর দেশের সেকুলার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অথবা মাইনরিটি সম্প্রদায় গুলো  হচ্ছে এই চোখ ফিরিয়ে রাখার কোল্যাটারাল ড্যামেজ। তাই নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার গলায় জুতার মালা বা মুরাদনগরে সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণ এর মতো কোন অপকর্মেরই বিচার করার দরকার আপাতত  হবে না।

এখন অনেককে বলতে শুনছি এই দিন দিন নয়,  আরো দিন আছে। আসলেই তাই,  না হলে ২০০১ থেকে যতবার  রাজনৈতিক পালাবদল  হলো,  প্রতি পরিবর্তনে বিরোধীপক্ষ যারপর নাই অত্যাচার এর শিকার হলো। যারাই ক্ষমতায় গেছে তারাই সিভিল পলিটিক্যাল ডিস্কোর্স বা রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর  করে নাই। প্রতিবার কোন না কোনভাবে মিলিটারি হস্তক্ষেপ করেছে বা জ্বালাও পোড়াও হয়েছে ,  তারপর ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। এবার যদিও নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে,  পক্ষ-বিপক্ষ কেউ এখনো ব্যাপারটা বিশ্বাস করছে বলে মনে হচ্ছে না। জ্বালাও পোড়াও সংস্কৃতি বা সামরিক হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতির ডিএনএ তে ঢুকে গেছে। তাই এত সহজে মুক্তি মিলবে বলে ভরসা হয় না। তার উপর ডোনাল্ড ট্রাম্প,  নরেন্দ্র মোদি ব্যস্ত ইসরাইল ইরান মামদানি কাশ্মীর নিয়ে, তাই এখন যারা আছে তারা ক্ষমতা আরো  দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেলে নেবে না তা কি করে হয়।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles