
হতাশা ও ব্যক্তিগত সমস্যার চরম টানাপোড়েনে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের কর্ণাটকের এক নারী। সেই উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন খরস্রোতা নদীতে। তবে আত্মহত্যার চেনা ছকের মাঝে হঠাৎই বাধা হয়ে দাঁড়াল নদীর এক জলজ প্রাণী—কুমির।
পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পরপরই নদী থেকে ভেসে এসে ওই নারীর ওপর আক্রমণ চালায় একটি কুমির, কামড়ে ধরে তাকে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আতঙ্কে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ভুলে বাঁচতে চেয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আর্তচিৎকারেই প্রাণ ফিরে পেলেন ওই নারী।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার অন্তর্গত সুব্রহ্মণ্য অঞ্চলের কুক্কে এলাকায়, কুমারাধারা ব্রিজের কাছে। গত বুধবার রাতে ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তীব্র মানসিক কষ্টে থাকা ওই নারী শেষ সম্বল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আত্মহত্যার পথ। রাতের অন্ধকারে তিনি কুমারাধারা নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে পানিতে পড়ার পরেই শুরু হয় অন্য বিভীষিকা। নদীতে থাকা একটি কুমির তার ওপর হামলা চালায় এবং শরীরে কামড় বসায়।
কুমিরের কামড় খেয়ে তীব্র ব্যথায় ও আতঙ্কে ওই নারী সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। সৌভাগ্যবশত, নদীর কাছে অবস্থিত একটি লজের কর্মীরা রাতের নিস্তব্ধতা চিরে আসা সেই আর্তনাদ শুনতে পান। তারা কালবিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি স্থানীয় সুব্রহ্মণ্য পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে সুব্রহ্মণ্য পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদী থেকে ক্ষতবিক্ষত ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হন পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে নিকটস্থ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে, কুমিরের কামড়ে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে পুলিশ ওই নারীর পরিবারকে খুঁজে বের করে খবর দেয়। হাসপাতালে মানসিক পরামর্শ ও কাউন্সেলিং প্রদান করার পর পরিবারের জিম্মায় তাকে সসম্মানে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। পরিবারের বিশেষ অনুরোধে পুলিশ ওই নারীর পরিচয় গোপন রেখেছে এবং এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।

