পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হত্যার সন্দেহ, প্রেমিকের ভাড়া বাসায় মিলল স্বামীর বস্তাবন্দি মরদেহ

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হত্যার সন্দেহ, প্রেমিকের ভাড়া বাসায় মিলল স্বামীর বস্তাবন্দি মরদেহ - the Bengali Times
উদ্ধার হওয়া মরদেহ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নিখোঁজের দুই দিন পর নাদিম আকন্দ (৩৬) নামে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দী গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজাকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ওই বাসার ভাড়াটিয়া হাকিম মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে হাকিম মোল্লার কথিত পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

- Advertisement -

নিহত নাদিম আকন্দ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকার জসিমউদ্দিনের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকায় একটি মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৪ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে দড়ি সত্যভান্দী গ্রামের বাতেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাকিম মোল্লার টিনের ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক বাতেনের ছেলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাদিমের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নাদিমের স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে হাকিম মোল্লার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের বিরোধ থেকেই নাদিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজাকে আটক করা হয়েছে। হাকিম মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাদিমকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles