
বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে মাইক্রোবাস আটকে কনেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে অনেকটা সিনেমার দৃশ্যের মতো। তবে ঘটনার এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনে তামান্না আক্তারের দেওয়া ভিডিওবার্তা নতুন করে তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার (৩০ আগস্ট) হোসেনপুর উপজেলার জিনারি ইউনিয়নের হাজীপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রী বহনকারী মাইক্রোবাসের গতিরোধ করেন ২০ থেকে ২৫ জন যুবক। এ সময় গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূ তামান্নাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী আতীকুর রহমান মিয়াদের নামও আলোচনায় এসেছে।
তামান্নার বিয়ে হয়েছিল নান্দাইল উপজেলার রাজবাড়িয়া এলাকার আকতার মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী ও স্বজনদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথেই ঘটে ওই ঘটনা।
তবে ঘটনার পরদিন সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওবার্তায় তামান্নার বক্তব্যে আসে ভিন্ন চিত্র। ভিডিওতে তার পাশে কয়েকজন নারীকে দেখা যায়। সামনেও একজন পুরুষ ছিলেন। একটি কক্ষের দরজার কাছে আতীকুর রহমান মিয়াদকেও দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে ভিডিওটির অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওবার্তায় তামান্না বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
তামান্নার এই বক্তব্যের পর ঘটনাটি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি কি সত্যিই জোরপূর্বক সেখানে নেওয়া হয়েছিলেন, নাকি আগে থেকেই আতীকুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল—এখন মূলত সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তামান্না ও আতীকুরের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর আতীকুর রহমান মিয়াদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..’ লিখে একটি পোস্ট দেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কনেকে কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটির তিনটি দিক এখন সামনে এসেছে—বরের পক্ষের অভিযোগ, তামান্নার নিজস্ব বক্তব্য এবং স্থানীয়দের নানা দাবি। কোনটি সত্য, তা নির্ধারণ করবে পুলিশের তদন্ত। বিশেষ করে মাইক্রোবাস আটকে দেওয়ার ঘটনা, সেখানে কতজন ছিল, তামান্না স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন কি না এবং আতীকুরের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

