কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিকদের সহায়তায় নতুন সংগঠন

কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিকদের সহায়তায় নতুন সংগঠন - the Bengali Times
কানাডার রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও বৈষম্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ এখনও রয়েছে

কানাডার রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও বৈষম্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ এখনও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিকদের এক ছাতার তলায় এনে তাঁদের সহযোগিতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করল ‘দি কানাডিয়ান কংগ্রেস অব ব্ল্যাক পলিটিশিয়ান’।

সম্প্রতি সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের জাতীয় সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংগঠনের লক্ষ্য, কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক দল ভিন্ন হলেও কৃষ্ণাঙ্গ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

- Advertisement -

প্রায় এক দশক আগে এই উদ্যোগকে সংগঠিত করার কাজে সহযোগিতা করেছিলেন লিবারেল এমপি মাইকেল কোটো। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এত বছর পর সংগঠনটিকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে দেখা অত্যন্ত আনন্দের। তাঁর কথায়, শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল গোটা দেশে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারের সব স্তরে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিকরা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। সংগঠনটির দাবি, নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এটিই কানাডার একমাত্র জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন। বর্তমানে দেশজুড়ে ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তর মিলিয়ে এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৫০।

এদিকে কানাডার রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেড়েছে। কানাডিয়ান পার্লামেন্টারি রিভিউয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচন ছিল টানা পঞ্চম নির্বাচন, যেখানে সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে মোট ৬২ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৫৩। ফলে সংসদে সংখ্যালঘু এমপিদের প্রতিনিধিত্ব ১৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮.১ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও বাস্তবে কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিকদের জন্য পরিস্থিতি এখনও সহজ নয়। কার্লটন ইউনিভার্সিটি ও অপারেশন ব্ল্যাক ভোট কানাডার ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন। সাধারণ মানুষ, সহকর্মী রাজনীতিক, আইনসভা ও পুরসভা-স্তরের কর্মী এবং গণমাধ্যম বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকেই বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যের পথে অন্যতম বড় বাধা হল পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান ও স্বেচ্ছাসেবকের অভাব। ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার পরও অনেক প্রার্থী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে পারেন না।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ কানাডিয়ান প্রাদেশিক বা ফেডারেল নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। সেই জায়গা থেকেই জাতীয় পর্যায়ে নতুন সংগঠনটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি কাজ করতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles