ম্যাডোনা-কাইলি মিনোগ সম্পর্কের রসায়ন

ম্যাডোনা-কাইলি মিনোগ সম্পর্কের রসায়ন - the Bengali Times
সম্প্রতি নতুন গান লাভ সেনসেশন এর প্রচারে ম্যাডোনা ও কাইলিকে একই ধরনের খোলামেলা বেগুনি পোশাকে দেখা গেছে

‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনা। দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে তার মতো প্রভাব বিস্তার করা নারী পপ তারকা খুব কমই আছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কাইলি মিনোগও নিজের স্বতন্ত্র সংগীত ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছেন বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। দু’জনকে দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের সম্পর্কের গল্পটি ভিন্ন—পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের।

সম্প্রতি নতুন গান ‘লাভ সেনসেশন’-এর প্রচারে ম্যাডোনা ও কাইলিকে একই ধরনের খোলামেলা বেগুনি পোশাকে দেখা গেছে। দু’জনেরই খোলা স্বর্ণালি চুলের সেই উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে তাদের পরিচয় থাকলেও গত কয়েক বছরে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

- Advertisement -

কাইলির বয়স ৫৮ এবং ম্যাডোনার ৬৮। চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রেম, আনন্দ ও বিচ্ছেদের গান দিয়ে দু’জনই কোটি কোটি শ্রোতার জীবনের অংশ হয়ে আছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু’জনে মিলে এ পর্যন্ত ১০২টি শীর্ষ দশের জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন।

তাদের সাম্প্রতিক যৌথ গান ‘লাভ সেনসেশন’ নিয়ে সংগীতজগতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গত মাসে আমস্টারডামে ওয়ার্ল্ডপ্রাইড উপলক্ষে ম্যাডোনার কনসার্টে হঠাৎ হাজির হয়ে কাইলি নতুন দ্বৈত গানটি পরিবেশন করেন। দর্শকদের উচ্ছ্বাসের পর গানটি যুক্তরাজ্যের তালিকায় আট নম্বরে উঠে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।

দু’জনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মিল সম্ভবত নিজেদের বারবার নতুন করে তুলে ধরার ক্ষমতা। আশির দশকে ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে তারা কখনো একই রকম চেহারা, পোশাক বা সংগীতের ধরনে আটকে থাকেননি। সময়ের সঙ্গে নিজেদের সংগীত ও উপস্থাপনাকে বদলে নতুন প্রজন্মের কাছেও প্রাসঙ্গিক থেকেছেন।

তবে অন্য অনেক নারী পপ তারকার সঙ্গে ম্যাডোনার সম্পর্ক যতটা আলোচিত, কাইলির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এর একটি স্মরণীয় উদাহরণ ২০০০ সালের এমটিভি ইউরোপ মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। স্টকহোমের ওই অনুষ্ঠানে ম্যাডোনা কালো একটি টি-শার্ট পরে মঞ্চে ওঠেন, যার বুকে সোনালি অক্ষরে লেখা ছিল—‘কাইলি মিনোগ’।

পরে ম্যাডোনা জানান, সে সময় তিনি এমন কয়েকজন গায়িকার কথা ভাবছিলেন, যাদের তিনি বিশেষভাবে পছন্দ করতেন। সেখান থেকেই কাইলির নাম তার মাথায় আসে।

এই ঘটনায় কাইলিও বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি পরে জানান, আগে থেকে এ বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। ম্যাডোনার এমন প্রকাশ্য ভালোবাসা ও সম্মান তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল।

২০১৫ সালে ব্রিসবেনের এক অনুষ্ঠানে ম্যাডোনা কাইলির বিখ্যাত গান ‘কান্ট গেট ইউ আউট অব মাই হেড’-এর অংশ গেয়েছিলেন। একই বছর একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কাইলি সম্পর্কে ম্যাডোনা বলেন, তিনি তাকে ভালোবাসেন এবং তার বড় ভক্ত।

দীর্ঘদিনের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা শেষ পর্যন্ত মঞ্চেও রূপ নেয়। ২০২৪ সালে ম্যাডোনার সেলিব্রেশন ট্যুরের লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠানে কাইলিকে দ্বৈত গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেদিন কাইলি ম্যাডোনার নাম লেখা কালো পোশাক পরে মঞ্চে হাজির হন।

সংগীত বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের এই সহযোগিতা শুধু আবেগের নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী। দুই তারকার আলাদা ও বিশাল ভক্তগোষ্ঠী একত্রিত হওয়ায় নতুন শ্রোতাদের কাছেও তাদের গান পৌঁছে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে যাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, ম্যাডোনা ও কাইলি মিনোগ যেন শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করলেন—দুই শক্তিশালী নারী তারকার মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়েও পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles