
মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশিত নতুন নথিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে বেলারুশের দন্তচিকিৎসক ডা. কারিনা শুলিয়াকের জন্য দুই নারীর মধ্যে একটি সাজানো বিয়ের আয়োজন করেছিলেন এপস্টেইন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে শুলিয়াকের শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে রাখার পরিকল্পনা করেন এপস্টেইন। তিনি নিজের এক নারী সহকারীকে, যিনি অতীতে এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, শুলিয়াকের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পর ওই সম্পর্কের ভিত্তিতে শুলিয়াক গ্রিন কার্ড পান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও লাভ করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি ও ই-মেইল প্রকাশ করলে তাদের সম্পর্কের নানা দিক সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, এক দশকের বেশি সময় ধরে শুলিয়াকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন এপস্টেইন। তিনি শুলিয়াকের পড়াশোনা, জীবনযাপন ও পরিবারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং তাকে প্রায় ১০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়, এপস্টেইন শুলিয়াককে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করাতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন। ভর্তি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুদান দেওয়ার তথ্যও সেখানে উঠে এসেছে।
২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের আগে পর্যন্ত শুলিয়াক এপস্টেইনের বিভিন্ন বাড়ির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। কারাগারে মৃত্যুর আগের দিনও প্রায় ২০ মিনিট ফোনে শুলিয়াকের সঙ্গে কথা বলেন এপস্টেইন। পরে আত্মহত্যার আগে সংশোধিত উইলে নিজের সম্পদের বড় একটি অংশ এবং ৩৩ ক্যারেটের একটি হীরার আংটি শুলিয়াকের নামে রেখে যান।
তবে প্রকাশিত নথিতে শুলিয়াককে এপস্টেইনের যৌন পাচার চক্রের সহঅভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে তিনি নিজেকেও কখনো এপস্টেইনের ভুক্তভোগী বলে দাবি করেননি। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে তাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল অর্থ, নির্ভরশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ—এমন চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের জন্য যে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটিতে জড়িত নারী পরে অভিযোগ করেন যে তাকে জোরপূর্বক ওই বিয়েতে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিষয়টি নতুন করে এপস্টেইনের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

