
একটি বিষয় জানা আমাদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ যে—বুদ্ধিমত্তা (Intelligence) আর প্রজ্ঞা/জ্ঞান (Wisdom) এক জিনিস নয়। ইতিহাস থেকে আমরা যা শিখি তা হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান সত্তারাই অনেক সময় সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণায় আক্রান্ত সত্তা হয়ে ওঠে। যদি আমরা মানুষ এতই বুদ্ধিমান হই, তাহলে আমরা এত বোকামি করি কেন?
প্রথমত, অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষদের যদি ভুল তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে তারাও ভুল ও বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এখন আমাদের হাতে রয়েছে, অথচ এই প্রযুক্তিই বিশ্বকে বিপুল পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় ও ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
তথ্য মানেই সত্য নয়। পৃথিবীতে যত তথ্য আছে, তার খুব অল্প একটি অংশই সত্য। আর এখন আমরা বিপুল পরিমাণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বন্যায় ডুবে আছি, যা আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ফেসবুকে যে সব তথ্য আমরা প্রতিদিন দেখতে পাই তা কতটুকু যাচাই বাছাই করে দেয়া সঠিক তথ্য? যদি আমরা যাচাই বাছাই ছাড়াই ফেসবুক কিংবা যে কোন মিডিয়ায় দেয়া তথ্য বিশ্বাস করে সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে যে কোন সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে শুরু করে নানান আত্মঘাতি ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অতএব শুধুমাত্র আপনার বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন না, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা দিয়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। সময়টা বড়ই কঠিন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
দুই
যখনই কেউ প্রচলিত শয়তানি রাজনৈতিক পদ্ধতিকে চ্যালেন্জ করে গনতান্ত্রিক, মানবিক, জবাবদিহিতা ও ন্যায় বিচারের সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখায় আমি তাকেই সমর্থন করি। তা সে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, আমেরিকা বা পাকিস্তান যেখানেই হোক না কেন। তা সেটা মুভি, নাটক বা বাস্তবে যেখানেই হোক। সে কারণেই ভারতের বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং, চন্দ্রশেখর কিংবা জ্যোতি বসুকে সমর্থন দিয়েছি, আম আদমির কেজরিওয়ালকে সমর্থন দিয়েছি, এখন নুতন আশার মশাল জ্বালিয়ে আলো দেখাচ্ছে তরুণদের ককরোজ পার্টি তথা সিজেপি। তাদের কথাবার্তা খুবই পজিটিভ। হিন্দু মুসলিম তথা জুজুর ভয় দেখিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে বিভেদ আর রক্তের হোলি খেলে ক্ষমতায় থাকার নগ্ন ও পৈশাচিক যে পথ এতদিন বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি বেছে নিয়েছিল তার দিন সম্ভবত শেষ হয়ে এসেছে। মাত্র অল্প কয়েকদিনে ককরোজ পার্টির পেছনে তরুণ যুবকদের এরকম সমর্থন প্রমাণ করে যে কংগ্রেস, তৃণমুল নয় বিজেপি নামক বিষাক্ত সাপকে ধ্বংস করতে বিকল্প হচ্ছে দেশের কোটি কোটি তরুণ যুবক। মুশকিল হচ্ছে উপমহাদেশে এরকম স্বপ্ন অনেকেই দেখায় এবং পরে আবার তারাও কথিত বুড়োদের পথেই চলা শুরু করে। আশা করি ভারতের ককরোজ পুলাপান পথ হারাবে না এমন পদ্ধতিই বেছে নিবে। শুভ কামনা জানাই বাচ্চাদেরকে।

