স্বর্ণ নিয়ে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করছে রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট

স্বর্ণ নিয়ে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করছে রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট - the Bengali Times
রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের মুখপাত্র ডেনিন পেরিন জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিষয়টি সামনে আসার পর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি বলেন যেসব সরবরাহ চেইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেখান থেকে আসা যেকোনো উপাদান পরিশোধনের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে

কানাডার রাষ্ট্রীয় স্বর্ণ পরিশোধন ও মুদ্রা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট গুরুতর এক বিতর্কের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত স্বর্ণের একটি অংশ এমন খনি থেকে এসেছে, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কলাম্বিয়ার কুখ্যাত মাদক কারবারী গোষ্ঠী ক্ল্যান ডেল গলফোর হাতে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই মিন্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু করেছে।

রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের মুখপাত্র ডেনিন পেরিন জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিষয়টি সামনে আসার পর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেসব সরবরাহ চেইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখান থেকে আসা যেকোনো উপাদান পরিশোধনের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করে থাকে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

- Advertisement -

সোমবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিন্টে আসা কিছু স্বর্ণের উৎস কলাম্বিয়ার এমন খনি, যেগুলো বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক পাচারকারী সংগঠন ক্ল্যান ডেল গলফো। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কলাম্বিয়ায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ খনি পরিচালনা এবং সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কলাম্বিয়া থেকে সংগৃহীত স্বর্ণ সরাসরি কানাডায় পাঠানো হয়নি। বরং টেক্সাসভিত্তিক এক মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই স্বর্ণের সঙ্গে আমেরিকান উৎসের স্বর্ণ মিশিয়ে পরে তা কানাডায় পাঠানো হয়। ফলে স্বর্ণের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ খনি, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মাদকচক্রের অর্থায়নে স্বর্ণ ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অপরাধচক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে থাকে। এ কারণে বৈশ্বিক স্বর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

ডেনিন পেরিন জানিয়েছেন, গত বছর রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট প্রায় ৫০ লাখ আউন্স স্বর্ণ পরিশোধন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ ছিল মিশ্রিত উপাদান বা ব্লেন্ডেড ম্যাটেরিয়াল। যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিন্ট আন্তর্জাতিক নৈতিক বাণিজ্য নীতিমালা অনুসরণ করে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখতে নিয়মিত নিরীক্ষা পরিচালনা করে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি, স্বাধীন তদন্ত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণ ট্রেসিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। কারণ, অবৈধ খনি থেকে আসা স্বর্ণ বৈধ বাজারে প্রবেশ করলে তা শুধু অপরাধচক্রকে শক্তিশালী করে না, বরং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ ঘটনায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের সুনাম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে উৎস যাচাই ও নৈতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles