চীনা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মার্কিন উড়োজাহাজের ছবি তোলার অভিযোগ

চীনা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মার্কিন উড়োজাহাজের ছবি তোলার অভিযোগ - the Bengali Times
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার আশপাশে সংবেদনশীল উড়োজাহাজের ছবি তোলার অভিযোগে এক চীনা কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার আশপাশে সংবেদনশীল উড়োজাহাজের ছবি তোলার অভিযোগে এক চীনা কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত তিয়ানরুই লিয়াং (২১) নামের ওই শিক্ষার্থী সড়কপথে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থান করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়া নথি এবং বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লিয়াংকে গত ৭ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের একটি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে স্কটল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। জানা গেছে, স্কটল্যান্ডের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

- Advertisement -

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লিয়াংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেব্রাস্কার ওফাট বিমান ঘাঁটির আশপাশে তোলা কিছু ছবি। এফবিআইয়ের এক নথিতে বলা হয়েছে, তিনি সড়কের পাশ থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল কয়েকটি উড়োজাহাজের ছবি তুলেছিলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

এর মধ্যে ছিল আরসি-১৩৫ নজরদারি বিমান এবং বহুল আলোচিত ই-৪বি উড়োজাহাজ। ই-৪বিকে সাধারণত “ডুমসডে প্লেন” নামে ডাকা হয়। যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে এই উড়োজাহাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সামরিক কমান্ডের জন্য আকাশভিত্তিক জাতীয় কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। সামরিকভাবে পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭ মডেলের এই বিমানকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ওফাট বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কৌশলগত কমান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মতো স্পর্শকাতর সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে সন্দেহজনক তৎপরতা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, নেব্রাস্কা সফরের আগে লিয়াং সাউথ ডাকোটার এলসওর্থ বিমান ঘাঁটির কাছেও গিয়েছিলেন। ওই ঘাঁটিটিও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। এ কারণে কর্তৃপক্ষ এখন তার পুরো সফরপথ এবং যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

তথ্য অনুযায়ী, লিয়াং প্রথমে কানাডার ভ্যানকুভারে পৌঁছান। এরপর গত ২৮ মার্চ সড়কপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বৈধ ভিসা ব্যবহার করে তিনি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি পান। পরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণের সময় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে তার উপস্থিতি নজরে আসে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত করে বলেননি যে এই কর্মকাণ্ডের পেছনে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এফবিআই ও অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে লিয়াংয়ের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ইস্যুতে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনা, প্রযুক্তি ও নজরদারি সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীল দিকটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles