‘দুঃখিত জিয়া, মরতে তো হবেই’— গৃহবধূর রহস্যময় শেষ চিঠি

‘দুঃখিত জিয়া, মরতে তো হবেই’— গৃহবধূর রহস্যময় শেষ চিঠি - the Bengali Times
মণিকা এবং তার লেখা শেষ চিঠি

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনৌরে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক তথ্য। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একদল প্রতারকের মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মণিকা (২৮) নামে ওই গৃহবধূ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই মেয়ে ঘুমিয়ে থাকার সময় গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মণিকা। সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে ব্ল্যাকমেইল বিষয়টি গোপন রেখে পরিবারের সদস্যরা তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। তবে পরে উদ্ধার হওয়া একটি ‘সুইসাইড নোট’ পুরো ঘটনাকে নতুন মোড় দেয়।

- Advertisement -

জানা গেছে, ছোট মেয়ে জিয়ার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে মণিকা লিখেছেন, “দুঃখিত জিয়া, মা-কে মরতে তো হবেই।” এই একটি বাক্যই যেন তার অসহায় মানসিক অবস্থার গভীরতা তুলে ধরেছে।

স্বামী রনধীরের উদ্দেশেও আলাদা একটি চিঠি লিখে যান তিনি। সেখানে উল্লেখ করেন, এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গত কয়েক দিন ধরে তাকে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছিল। প্রবল মানসিক চাপে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন বলেও চিঠিতে জানান মণিকা।

পরিবারের সদস্যরা পরে মণিকার ফোন খতিয়ে দেখে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান। হোয়াটসঅ্যাপ কল, মেসেজ ও অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, অন্তত পাঁচটি আলাদা নম্বর থেকে তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কখনও ফোনকারীরা নিজেদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা পরিচয় দিত, আবার কখনও তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার ভয় দেখাত।

রনধীরের অভিযোগ, প্রতারকেরা মণিকার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিল। শুধু তাই নয়, তার জীবন নষ্ট করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেন মণিকা।

পরিবার আরও জানিয়েছে, মণিকার শেষকৃত্যের সময়ও এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও কল করেন। নিজেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি মণিকার সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে মণিকার মৃত্যুর খবর জানার পর আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দেন তিনি। এমনকি বুধবারও রনধীরকে ফোন করে ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিজনৌরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রনধীর। যেসব নম্বর থেকে হুমকি আসছিল, সেগুলিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিজনৌরের পুলিশ সুপার অভিষেক ঝা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা মণিকাকে হুমকি দিচ্ছিল এবং এর পেছনে কোনও সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles