
অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার টরন্টোর ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্কের অংশবিশেষ অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপটি মূলত বিলি বিশপ এয়ারপোর্টের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
জানানো হয়েছে, অধিগ্রহণের আওতায় আসতে পারে লিটল নরওয়ে পার্কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ। এই পার্কটি অবস্থিত কুইনৎস কোয়ে ওয়েস্ট এবং ব্যাথার্স্ট স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে, যা টরন্টোর ওয়াটারফ্রন্টের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় এলাকা।
অন্টারিওর পরিবহনমন্ত্রী প্রাবমিত সরকারিয়া এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিলি বিশপ বিমানবন্দরটি প্রদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আরও ভ্রমণ বিকল্প তৈরি করা, উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ উন্নত করা এবং বিমান পরিবহন বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পার্কের পরিবেশ ও জনসাধারণের ব্যবহারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে টরন্টো পোর্ট অথরিটি এবং সিটি অব টরন্টোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।
প্রায় ২.৪ হেক্টর আয়তনের লিটল নরওয়ে পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র। এখানে রয়েছে বেসবল ডায়মন্ড, ওয়াডিং পুল, শিশুদের খেলার মাঠ এবং সবুজ বাগান এলাকা। পার্কটির উত্তর প্রান্তটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়, কারণ এটি মার্টিন গুডম্যান ট্রেইলের একটি ব্যস্ত অংশের সঙ্গে সংযুক্ত যেখানে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো এবং সাইক্লিং করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও পার্কটির গুরুত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এখানে নরওয়ের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সেই ঐতিহ্য স্মরণ করেই পার্কটির নাম রাখা হয়েছে “লিটল নরওয়ে পার্ক”।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, অধিগ্রহণ করা অংশটিকে পার্ক হিসেবেই সংরক্ষণ করা হবে এবং সেখানে কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। যদিও প্রস্তাবিত রানওয়ের সম্প্রসারণ কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই পরিকল্পনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্ভাবনা, অন্যদিকে নগরীর একটি মূল্যবান সবুজ স্থান আংশিক হারানোর আশঙ্কা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন প্রাদেশিক সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

