প্রিমিয়ারের অফিস রেকর্ড গোপন রাখার বিধানসহ ফোর্ড সরকারের বাজেট পাস

প্রিমিয়ারের অফিস রেকর্ড গোপন রাখার বিধানসহ ফোর্ড সরকারের বাজেট পাস - the Bengali Times
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি বসন্তকালীন বাজেট পাস করেছে যা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি বসন্তকালীন বাজেট পাস করেছে, যা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাজেটের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান প্রিমিয়ার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের অফিস-সংক্রান্ত রেকর্ড গোপন রাখার সুযোগ গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

এই বাজেটের অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ফ্রিডম অব ইনফরমেশন বা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট (এফওআই) আইনে আনা সংশোধন। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডকে আর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত সেলফোনে থাকা সরকারি কাজের রেকর্ড প্রকাশ করতে হবে না। এর ফলে সরকারি তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার কার্যত সীমিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা নিয়ে বিলটি দ্রুত পাস করিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় গণশুনানি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা বিরোধী দল ও স্বচ্ছতা-পন্থীদের সমালোচনার মুখে ফেলেছে সরকারকে।

- Advertisement -

এফওআই আইনে পরিবর্তনের ঘোষণা প্রথম দেওয়া হয়েছিল গত মার্চ মাসে। কিন্তু বিষয়টি ঘিরে একটি চলমান আইনি লড়াইয়ের কারণে তখন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এই লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটে যখন একটি সংবাদমাধ্যম এফওআই আবেদন করে প্রিমিয়ারের ফোন রেকর্ড চায়। গত জানুয়ারিতে আদালত রায় দেয় যে, সরকারি কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ফোনকলের লগ প্রকাশ করতে প্রিমিয়ার বাধ্য। একই সঙ্গে ইনফরমেশন অ্যান্ড প্রাইভেসি কমিশনারও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

ডাগ ফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সরকারি কাজ পরিচালনা করছেন এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে নিজের নম্বরও প্রকাশ্যে দিয়েছেন। তবে এই অভ্যাসই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রিমিয়ার যুক্তি দেন, ফোন রেকর্ড প্রকাশ করলে তার সংসদীয় এলাকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এফওআই আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য আগেই মুছে ফেলা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার কুইন’স পার্কে একটি লেট-নাইট অধিবেশন ডেকে সরকার চূড়ান্ত ভোটাভুটির ব্যবস্থা করে। এটি ছিল এমপিপিদের এক সপ্তাহের বিরতির আগে শেষ অধিবেশন, ফলে বিলটি দ্রুত পাস করার সুযোগ তৈরি হয়।

বিরোধী দল এবং স্বচ্ছতা-বিষয়ক সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে “গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা দুর্বল করার চেষ্টা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এফওআই আইনের এই পরিবর্তন সরকারি কার্যক্রমকে জনসাধারণের নজরদারি থেকে আড়াল করবে। অন্যদিকে, সরকার দাবি করছে যে এই পদক্ষেপ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয়।

এই নতুন আইন অন্টারিওর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে যা আগামী দিনগুলোতে আরও গভীরভাবে আলোচিত হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles