নীতি নৈতিকতায় অবিচল থাকা না থাকার পরীক্ষাক্ষেত্র

নীতি নৈতিকতায় অবিচল থাকা না থাকার পরীক্ষাক্ষেত্র - the Bengali Times
সাবেক এমপি মারিয়া মিন্নার সঙ্গে

গতকাল সর্বশেষ একটা পোস্ট করেছিলাম ইংরেজিতে যেটা আসলে নেতানিয়াহুর একটা বক্তব্যের সুত্রধরে একটা ইংরেজি টকশোর আলোচকদের বক্তব্য। নেতানিয়াহু মুলত মুসলমানদের উপর যে বর্বর হামলা, হত‍্যা, নির্যাতন দীর্ঘদিন যাবত চালাচ্ছে সেগুলোকে জাষ্টিফাই করতে তিনি তার ঐ বক্তব্যে বলেছেন যে দুনিয়ায় শুধু নীতি নৈতিকতা দিয়ে কাজ হয় না, নীতি নৈতিকতার সাথে বর্বরতা, নিষ্ঠুরতার দরকার আছে। সেই বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দুজন আলোচক( সম্ভবত ব্লাক আমেরিকান) চমৎকারভাবেই বলেছেন যে দুনিয়াটা আসলে খারাপ লোকদেরই জায়গা, এখানে খারাপ লোকেরাই বেশীরভাগ সময় জয়ী হয়। আর নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষগুলো কোনঠাসা থাকে। মাঝে মাঝে ভাল লোকজন জয়ী হয় বটে তবে তা সাময়িক সময়ের জন‍্য।

ভেবে দেখুন ইসরাইলের সাথে ইরান যুদ্ধের বিষয়টা। মুসলিম নামধারী দেশগুলোর অধিকাংশই ইসরাইলের সমর্থক। এর পেছনে কোন কারণকেই বিবেকসম্পন্ন কোন মানুষ সমর্থন করতে পারে না। নেতানিয়াহু আজ অপর এক ভিডিও বক্তব্যে বলেছে ইরান এখন অনেক দুর্বল এবং এই যুদ্ধ শেষে দুনিয়া তাদের নুতন বন্ধুদেরকে দেখতে পাবেন। অর্থাৎ তিনি পরিষ্কার ইংগিত দিয়েছে যে এতদিন লুকোচুরি করলেও মধ‍্যপ্রাচ‍্যের অনেক দেশ এখন সরাসরি তাদের সাথে সম্পর্ক করবে। খুব শীঘ্রই দুনিয়া তা দেখতে পাবে।

- Advertisement -

ভেবে দেখুন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের শাসকদের কথা। পাকিস্তানে ইমরান খান তুলনামূলক বেটার শাসক ছিল। অথচ তিনি অল্পকিছুদিন শাসন করে দীর্ঘদিন জেলে রয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে আর কোন ভাল শাসকই দেখতে পাওয়া যায় নি। আমার দেখা মতে ভারতে ভিপি সিং, চন্দ্রশেখর, আই কে গুজরালের সরকারগুলো খুব ভাল ছিল কিন্তু তারা ছিল খুবই স্বল্প মেয়াদী। জ‍্যোতিবসুতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিলেন।

অথচ দীর্ঘদিন যাবত ভারত শাসন করছে সাম্প্রদায়িক ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোদির সরকার। বাংলাদেশে তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আর কেউই ভাল সরকার ছিল না। বর্তমান সরকারের মেয়াদ এক মাসের হলেও মন্ত্রিসভার গঠন ও তাদের কার্যকলাপ এবং কথাবার্তা ভাল মনে হচ্ছে না। তারাও চাইছে আগের সরকারসমূহের মতই নষ্ট শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং অব‍্যাহত রাখতে। ড. ইউনুস সংকটকালীন সময়ে দায়িত্ব নিলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ব‍্যর্থ ছিলেন বলেই ইতিহাসে মুল‍্যায়িত হবে।

৫ই আগস্টের পরে যে তরুণ সমাজ জনগণকে আশার আলো দেখিয়েছিল তারাও চরম হতাশ করেছে জনগণকে। উপরের আলোচনায় ইসা (আঃ) কে সর্বশেষে দুনিয়ায় ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছে ভাল লোকজন সবার শেষে আসে। তারপর বলা হয়েছে এতদ্বসত্তেও সবকিছুর রচয়িতা একমাত্র আল্লাহ এবং দুনিয়াটা হলো এতসব সংকটের মধ‍্যেও নীতি নৈতিকতায় অবিচল থাকা না থাকার একটা পরীক্ষাক্ষেত্র মাত্র।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles