অ্যালগোরিদমভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল অধিকাংশ কানাডিয়ান

অ্যালগোরিদমভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল অধিকাংশ কানাডিয়ান - the Bengali Times
কানাডায় পণ্য ও সেবার মূল্য নির্ধারণে অ্যালগোরিদম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে

কানাডায় পণ্য ও সেবার মূল্য নির্ধারণে অ্যালগোরিদম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক এই পদ্ধতির ওপর হয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, নয়তো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাবাকাস ডেটা পরিচালিত এই সমীক্ষায় মোট ১,৯৩১ জন কানাডিয়ানের মতামত নেওয়া হয়। সমীক্ষাটি চলতি বছরের ৪ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে সম্পন্ন হয়। ফলাফলে উঠে এসেছে : ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, অ্যালগোরিদমিক মূল্য নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। ৩১ শতাংশ মনে করেন, এটি চালু রাখা যেতে পারে, তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী এই পদ্ধতিকে “অন্যায্য” বলে উল্লেখ করেছেন।

- Advertisement -

অ্যালগোরিদমিক মূল্য নির্ধারণের মূল সমালোচনা হলো একই পণ্য বা সেবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ভিন্ন মূল্য নেওয়া। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার অনলাইন আচরণ, অবস্থান, ক্রয়ক্ষমতা, চাহিদা ও অন্যান্য ডেটার ভিত্তিতে দাম পরিবর্তিত হয়। ফলে, একজন ক্রেতা যে দামে পণ্য কিনছেন, অন্যজন হয়তো তার চেয়ে বেশি বা কম দামে একই জিনিস পাচ্ছেন। এটি অনেকের কাছে স্বচ্ছতার অভাব এবং বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

অ্যাবাকাস ডেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কোলেট্টো বলেন, “অনেক মানুষ হয়তো সরাসরি বুঝতে পারেন না যে তারা অ্যালগোরিদমিক মূল্য নির্ধারণের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ কানাডিয়ান কোনো না কোনোভাবে এর অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।” অন্যদিকে, কানাডিয়ান শিল্ড ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাস বেদনার জানান, “কোম্পানিগুলো বেশ কিছু সময় ধরেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে লাভ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।”

অ্যালগোরিদমিক মূল্য নির্ধারণ ইতোমধ্যেই কিছু খাতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। যেমন : ভ্রমণ ও এয়ারলাইন টিকিট, হোটেল বুকিং এবং রাইড-শেয়ারিং সেবা। তবে এখন এই পদ্ধতি খুচরা বাজার (রিটেইল) এবং ভাড়া বাসা বা রেন্টাল হাউজিং-এ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বেশি, কারণ এতে ভাড়ার দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়তে পারে।

এই সমীক্ষার ফলাফল কানাডার নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। জনমতের একটি বড় অংশ যখন এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তখন সরকারকে হয়তো শিগগিরই এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না এলেও : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ডেটা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ এবং ভোক্তার অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর নীতিমালা আসতে পারে।

অ্যালগোরিদমিক মূল্য নির্ধারণ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির একটি বাস্তবতা হলেও, এর ন্যায়সংগত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কানাডার এই সমীক্ষা দেখিয়ে দিচ্ছে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নৈতিকতা ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে সরকার, কোম্পানি এবং ভোক্তাদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles